মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪৭ পিএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

১১ মাস পর ‘গেমঘর’ থেকে বাড়ি ফিরলেন লোকমান

লোকমান হোসেন। ছবি : কালবেলা
লোকমান হোসেন। ছবি : কালবেলা

পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশায় লিবিয়া গিয়েছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার লোকমান হোসেন। তবে দালালদের হাতে পড়ে ১১ মাস বন্দিজীবন কাটাতে হয় তাকে। এ সময় তিনি ২৫ লাখ টাকা খুইয়ে দেশে ফিরেছেন।

জানা যায়, দেড় বছর আগে লিবিয়া যাওয়ার জন্য পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার নলী জয় নগরের লোকমান হোসেন স্থানীয় দালাল শাহ-আলমকে ৩ লাখ টাকা দেন। তবে লিবিয়ায় যাওয়ার পর বেতন না পেয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ইতালি যাওয়ার। ইতালি যাওয়ার পথে মানব পাচারকারীদের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

লোকমান হোসেন কালবেলাকে বলেন, শাহ আলম নামে একজনকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিই বিদেশ যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমাকে বিক্রি করে দেয় অন্য এক দালালের কাছে। তারপর লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা দিই সিলেটের হবিগঞ্জের শিরু ইসলাম নামের একজনকে। কিন্তু আমাকে ইতালি পাঠাননি তিনি।

তিনি বলেন, পরে বাড়ির জমি বিক্রি করে মাদারীপুরের দাদন জমাদ্দারকে দিই ১২ লাখ টাকা। লিবিয়ায় ত্রিপলী জহুরা ঘাট ওসামা ক্যাম্পের একটি রুমে বন্দি করে রাখে এবং মুক্তিপণের জন্য প্রতিদিন নির্যাতন করে। গরম ডিম পায়ুপথে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। কান ধরে মুরগি সাজিয়ে রাখত, এক হাতের ওপর ভর দিয়ে পা দুটি ওপরে দিয়ে রাখত। প্রতিদিন রাতে একটি মোবাইল নিয়ে আসত এবং সেখান থেকে পরিবারের কাছে আমার ভয়েস পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হতো।

লোকমান বলেন, যখন টাকা জোগাড় করতে পারিনি তখন ৩ সন্তান বিক্রি করতে চেয়েছি।

লোকমান হোসেনের স্ত্রী রিমি আক্তার (২৮) কালবেলাকে জানান, স্বামীকে মুক্ত করার জন্য দালালের বাড়িতে গিয়ে আমরা অনেকদিন থেকেছি। সে নিশ্চিত মুক্তি পেয়েছে সেটা জেনে সেখান থেকে আমরা এসেছি। আমার স্বামী ১১ মাস পরে দেশে ফিরেছেন। বেঁচে আছেন কিনা সেটাও জানা ছিল না।

এ বিষয়ে সাপলেজা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কাজল খান কালবেলাকে বলেন, লোকমান দেশে ফিরেছে। শুরু থেকে পরিবারটির পাশে ছিলাম। শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লোকমানের এখন ভালো চিকিৎসার প্রয়োজন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তেঁতুলিয়ায় তীব্র শীত, তাপমাত্রা কত

বিপিএল ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে দেখা যায়নি

আই ওয়াজ রিয়েলি শকড, হঠাৎ কেন এই কথা মাহমুদউল্লাহর

প্রতিদিন গোসল করা কি সত্যিই জরুরি

শীত বাড়বে রোববার থেকে, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলনের সময়ই ভূমিকম্প

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন / ঢাকার ২০টি আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই আজ

মধ্যরাতে ঝরল ২ প্রাণ

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শঙ্কা, সেনা প্রস্তুত করছে ইসরায়েল

১০

এনসিপির যে ১০ কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ

১১

জানুয়ারিতে একাধিক তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আভাস

১২

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী দল ঘোষণা

১৩

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা উঠছে আজ

১৪

পাহাড়ে শৈত্যপ্রবাহ, জনজীবন স্থবির

১৫

বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান 

১৬

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন কৌশল ইরাক যুদ্ধের ব্যর্থতার মতো হতে পারে

১৭

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপি নেত্রী

১৮

সব পক্ষের সদিচ্ছা থাকলে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব : রাশিয়া

১৯

ঢাকায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, আরও দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

২০
X