রাজবাড়ী-ফরিদপুরের বাস শ্রমিক ও মালিকদের দ্বন্দ্বে দুই রুটে ৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। এর ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
পুলিশ প্রশাসন বলছে, দুই জেলার মালিক ও শ্রমিক সমিতির মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরিদপুর বাস মালিকের এক নেতা বলেছেন, এ উদ্যোগ তাদের পক্ষ থেকে কিংবা রাজবাড়ীর পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার চেয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।
জানা গেছে, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর শহর থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টায় রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। প্রতি ১০ মিনিট পরপর একটি করে বাস ছেড়ে যায়। রাত ৮টা পর্যন্ত এভাবে বাস চলতে থাকে অপরদিকে ফরিদপুর থেকে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পর্যন্ত বাস চলাচল করত ৩০ মিনিট পর পর। রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে প্রতিদিন অন্তত ৮০ বার বাস চলাচল করে। সকাল ৬টা থেকে বাস চলা শুরু হয় এবং রাত ৮টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অপরদিকে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পথে প্রতিদিন ৪০ বার বাস চলাচল করে। এ পথে বাস চলাচল করে আধা ঘণ্টা পরপর। দৌলতদিয়া-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই জেলার বাস মালিকদের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের দাবি তাদের কোন হিস্যা না দিয়েই ফরিদপুরের বাস মালিকরা এ রুটে তাদের বাস চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে তাদের হিস্যার ব্যাপারে বারবার বলা হলেও তারা শোনেননি। এ ছাড়া গত ২৯ আগস্ট বিকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের বাস শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ফরিদপুরের রাজবাড়ীর রাস্তার মোড় থেকে রাজবাড়ীর মালিকদের বাসগুলো আবার রাজবাড়ীর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর পরপরই রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরের মালিকানাধীন বাসগুলোও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ জের ধরে পরবর্তীতে দুই রুটে বাস চলাচল চারদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
ফরিদপুর বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বলেন, ৩০ আগস্ট রাতে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই জেলার বাসগুলো নিজ নিজ জেলার সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত যাবে। কিন্তু পরে চিন্তা করে দেখা যায় এতে যাত্রী কম হবে, তেল খরচ উঠবে না এবং যাত্রীদের ভোগান্তি হবে। এ বিবেচনা করে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন বলেন, ২৯ আগস্ট বিকালে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীর একটি বাস ফিরিয়ে দেয় সেখানকার বাস মালিক সমিতি। এরই প্রতিবাদে ৩০ আগস্ট সকাল থেকে কোনো বাস ফরিদপুরে যাবে না মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সিদ্ধান্ত হলে বাস চলাচল শুরু করা হবে।
এদিকে রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার দিক থেকে আসা বাসগুলো ফরিদপুরের সীমান্তবর্তী সাইনবোর্ড এলাকা পর্যন্ত যাচ্ছে। পরে ওই যাত্রীরা পায়ে হেঁটে কিছুটা পথ অতিক্রম করে ফরিদপুরের সীমানায় এসে মাহেন্দ্র কিংবা ইজিবাইকে করে ফরিদপুর যাচ্ছে।
ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রনি ও সোহান খান বলেন, রাজবাড়ীর বড়পুল মোড়ে এসে দেখি বাস বন্ধ। মাহেন্দ্র অটোতেও অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে।
ফরিদপুরের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক তুহিন লস্কর বলেন, দুই জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বসে গত ৩০ আগস্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা নিজ নিজ জেলার শেষ সীমানা পর্যন্ত বাস চালাবেন। তবে রাজবাড়ী এ সিদ্ধান্ত মেনে ফরিদপুরের সীমান্ত পর্যন্ত বাস চলাচল শুরু করলেও ফরিদপুর থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মন্তব্য করুন