সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩৩
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫৫ এএম
আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫, ১০:৩৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ইমামতির টাকা জমিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে রাজকীয় বিয়ে

রাজবাড়ীতে হেলিকপ্টারে চড়ে রাজকীয়ভাবে বিয়ে করলেন হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। ছবি : সংগৃহীত
রাজবাড়ীতে হেলিকপ্টারে চড়ে রাজকীয়ভাবে বিয়ে করলেন হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীতে ইমামতির টাকা জমিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে রাজকীয়ভাবে বিয়ে করলেন হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। এমন বিয়ের সংবাদ শুনে ভিড় করেন উৎসুক জনতা।

রোববার (২০ জুলাই) দুপুরে জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া গ্রামে এমন রাজকীয় বিয়ের আয়োজন হয়। বর একই গ্রামের আবুল হোসেন ক্লাব মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যান ও একই মাঠে তিনি হেলিকপ্টারে করে বউ নিয়ে নামেন।

বর হাফেজ মো. রুহুল আমিন সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের মোশারফ হোসেন হেলালীর ছেলে। তিনি দাদশী মাজার জামে মসজিদের ইমামতি করেন এবং তাদের নিজস্ব একটি মাদ্রাসা রয়েছে।

স্থানীয় ও বরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিনের ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল হেলিকপ্টারে চড়ে সে বিয়ে করতে যাবে। এ জন্য সে ইমামতি করে স্বল্প আয়ের মধ্যেও টাকা জমিয়েছিল। তার জমানো টাকা ও বাবার কিছু জমানো টাকা দিয়ে সে হেলিকপ্টারে ঝিনাইদহ জেলায় বিয়ে করতে যায়।

বর হাফেজ রুহুল আমিন বলেন, আমি ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে হাফেজি পড়া শেষ করি। যখন হাফেজি পড়া শেষ করি তখন আমার বাবা আমাকে বলেছিল যে, তুমি কি চাও? তখন আমি বলেছিলাম হেলিকপ্টারে চড়ে আমার বিয়ে করতে যাওয়ার ইচ্ছা। তখন আমার বাবা বলেছিল তোমার যে আবদার আল্লাহ তোমার মনের আশা পূরণ করবে। আমার বাবা সবসময় এ ব্যাপারে সচেষ্ট ছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি হেলিকপ্টারে চড়ে ঝিনাইদহ বিয়ে করতে যাচ্ছি। আমার স্ত্রী সেও একজন হাফেজ।

রুহুল আমিনের বাবা মোশাররফ হোসেন হেলালী বলেন, আমার ছেলে ১০ বছর বয়সে হাফেজ হয়। তখন তাকে বলেছিলাম বাবা তুমি আমার কাছে কী চাও। আমি তখন মনে মনে ভেবেছিলাম বাইসাইকেলের থেকে আর বেশি কিছু কী চাবে সে। তখন সে তার দাদা-দাদিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসে আমার কাছে বলে আমি বিয়ের উপযুক্ত হলে আমাকে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যাব। তখন আমি তাকে আশ্বাস দেই। আমার ছেলে বিয়ের উপযুক্ত হলে তখন আমি মেয়ে দেখতে শুরু করি। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটা মেয়ে পছন্দ হয়। পরে আমার ছেলেকে জানাই। তখন সে বলে বাবা আমি কিন্তু হেলিকপ্টার ছাড়া বিয়ে করতে যাব না। তুমি আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলে।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে ইমামতি করে ৮-১০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকে। বেতনের টাকা থেকে সে প্রতিমাসে কিছু টাকা জমিয়ে রাখত। আমার ছেলের জমানো টাকা ও আমি কিছু টাকা দিয়ে তাকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করতে পাঠিয়েছে। আমার ছেলের মনের আশা পূরণ করতে পেরে আমি অনেক খুশি।

এ বিষয়ে বরাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শামসুদ্দিন জানান, এমন রাজকীয় বিয়ের আয়োজন এই গ্রামে আগে কখনো হয়নি। এখানে উৎসুক জনতার উপস্থিতি দেখে খুব ভালো লাগছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির জনসভার ১৮টি মাইক, ৫ কয়েল তার চুরি

দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির রাজনীতি : রিজভী

সিরাজগঞ্জে বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

তারেক রহমানই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন :  সালাম

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢামেকে শোক বই, উদ্বোধন করলেন ড্যাব সভাপতি 

শাকিবের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ‘গোপন’ খবর ফাঁস করলেন অমিত হাসান

ইসিকে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছ ভোট গণনা নিশ্চিত করতে হবে : রবিউল

ঢাবির মাঠে খেলতে আসায় কানে ধরালেন ডাকসুর সর্বমিত্র

সোমবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

তারেক রহমানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই : মঈন খান

১০

মাদুরোকে গ্রেপ্তারে মার্কিন অভিযানের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

১১

‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর’ সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ

১২

কোনো কোনো দল বলছে আমরা নাকি মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি : তারেক রহমান

১৩

সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য 

১৪

স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, সোমবার থেকে কার্যকর

১৫

ডিবির জালে আটক মাদক সম্রাট স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লাল

১৬

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির বিকল্প নেই : সালাহউদ্দিন

১৭

পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতাকারীরা ভোটের জন্য এসেছে : মির্জা ফখরুল

১৮

এবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে ‘বৈঠকে’ বসছে পাকিস্তানও, উত্তেজনা তুঙ্গে 

১৯

‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ মন্তব্যের জেরে আইনি পথে যাচ্ছে ডাকসু

২০
X