ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাটি ফেলে মহাশ্মশানের জায়গা দখল করার অভিযোগ করেছেন সনাতন ধর্মের মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় পৌর শহরের সড়ক বাজার মুক্ত মঞ্চের সামনে মানববন্ধনে এ অভিযোগ করা হয়।
এলাকাবাসী ও সনাতন ধর্মের মানুষের আয়োজনে মানববন্ধনে ৪-৫ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। ৭ দিনের মধ্যে শ্মশানের জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে প্রতিবাদ সভা, প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও ধর্ম উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। অর্ধবেলা দোকানপাট বন্ধ ও সন্ধ্যায় উপজেলার সব মন্দির ও হিন্দুবাড়িতে একযোগে শঙ্খ বাজানোসহ আগামী ৭ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রশাসন সমাধান না করলে শারদীয় উৎসব দুর্গাপূজা বন্ধ রাখার আলটিমেটাম দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।
শান্তিবন মহাশ্মশানের প্রধান পূজারি আশীষ ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি চন্দন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক অলক চক্রবর্তী, মহাশ্মশানের সভাপতি হীরালাল সাহা, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব প্রবীর চৌধুরী রিপন, জেলা হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল শীল, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মন্তাজ মিয়া, প্রভাষক সুভাস দাস, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাবেদ আহমেদ ভূঁইয়া, দুলাল ঘোষ প্রমুখ।
হিন্দু নেতারা অভিযোগ করেন, গত ২০ আগস্ট পৌর শহরের রাধানগর কলেজপাড়ায় শ্মশানের পাশে মাপজোক করে খুঁটি দিয়ে লাল নিশান টানিয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসন তখন আমাদের বলেছিল, তারা সরকারি জায়গা মাপজোক করছে। কাউকে জায়গা বুঝিয়ে দেবে না; কিন্তু কয়েকদিন ধরে আল-নাসির টাওয়ার (৭ তলা) ভবনের মালিক নাসির মিয়ার ভাই মুছা মিয়া গং লাল নিশানের পাশে মাটি ফেলে শ্মশানের জায়গা দখল শুরু করেছে।
তারা আরও বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে আখাউড়ায় আমরা হিন্দু-মুসলমানরা সম্প্রতির বন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের এ সম্প্রতির বন্ধনকে নষ্ট করার চক্রান্ত করে উসকানি দিচ্ছে একটি মহল।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবু মুছা বলেন, আমি আমার নিজস্ব জায়গায় মাটি ভরাট করছি। শ্মশানের জায়গা দখল করার অভিযোগ সত্য নয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতশী দর্শী চাকমা বলেন, আমরা সরকারি জায়গা মাপজোক করে লাল নিশান দিয়েছি। এটা জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা।
মন্তব্য করুন