কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হয়েছেন ওই ছাত্রীর বাবা ও ভাই। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে আহতরা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে উপজেলার কান্দুঘর ও শিদলাই এলাকার পৃথক স্থানে এ ঘটনা ঘটেছে।
আহত রকিবুল ইসলাম (ছাত্রীর ভাই) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিদলাই দারুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কিছুদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল স্থানীয় ফয়েজ মিয়ার ছেলে হৃদয় ও নশু মিয়ার ছেলে রাকিবসহ আরও কয়েকজন বখাটে তরুণ। ঘটনাটি ওই ছাত্রী তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘরের ঘাগরাকাটা এলাকায় ওই ছাত্রীর বাবা মিজানুর রহমান তার মেয়েকে উত্ত্যক্তের ঘটনা সরাসরি দেখতে পান। এ সময় তিনি মেয়ের সঙ্গে অসদাচরণের প্রতিবাদ করায় দুটি মোটরসাইকেল চেপে আসা হৃদয়, রাকিবসহ কয়েকজন বখাটে তরুণ ওই ছাত্রীর বাবা মিজানুর রহমানকে মারধর ও অপদস্ত করে।
পরে এ ঘটনা শুনতে পেয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে ওই ছাত্রীর ভাই রকিবুল ইসলাম উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের শিদলাই শংশরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গেলে হৃদয় ও রাকিবের নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ রকিবুল ইসলামের ওপরও হামলা চালায়। এ সময় তাদের হামলায় রকিবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত রকিবুল ইসলামকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে শিদলাই ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আলাউল আকবর বলেন, ঘটনাটি আমি এক পক্ষের কাছ থেকে শুনেছি। শুনেছি এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে কয়েকজন তরুণ বিরক্ত করছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই ছাত্রীর বাবাকে ও পরে ভাইকে মারধর করেছে ওই তরুণরা। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান করছি।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া বলেন, এরকম কোনো ঘটনা আমরা এখনো শুনিনি। তবে যেহেতু এটি ইভটিজিংয়ের বিষয় সে বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, এ বিষয়টি আমি শিদলাই ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের থানায় গিয়ে দ্রুত অভিযোগ করতে বলেছি।
মন্তব্য করুন