চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এইচএসসিতে ফেল করেও বছরে আয় বিশ লাখ টাকা

জাহিদ হাসান জয়। ছবি : কালবেলা
জাহিদ হাসান জয়। ছবি : কালবেলা

বৈদ্যুতিক সুবিধা না থাকায় নিজের ঘরে বসে কাজ করার মতো অবস্থা ছিল না। কম্পিউটার বা ফ্রিল্যান্সিং এর ওপর কখনো নেননি কোনো প্রশিক্ষণ। এলাকায় ছিল না ওয়াইফাই বা ভালো কোনো ইন্টারনেট সুবিধা। ছিল না ইংরেজি ভাষায় ভালো দখল। এতোকিছুর ভেতরে বসেও বছরে পনেরো থেকে বিশ লাখ টাকা আয় করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন নোয়াখালীর চাটখিলের জাহিদ হাসান জয়।

জাহিদ চাটখিল সরকারি পি.জি স্কুল থেকে ২০১০ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও সে বছর পরীক্ষা দিতে পারেননি। এরপর ২০১১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি শেষ করেন। ২০১৩ সালে চাটখিল পাঁচগাও মাহবুব সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাও দুই বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পর বাকি বিষয়গুলোতে আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি তার। যে কারণে সেখানেই প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার ইতি ঘটে।

জাহিদের বয়স এখন ২৯ এর কোটায়। নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার চাটখিল পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দৌলতপুর গ্রামের হোসেন আলী হাজি বাড়ির মো. লোকমান হোসেন ও মারজাহান এর তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান তিনি। বড় সন্তান হওয়ার কারণে কম বয়সে পরিবারের চাপ কিছুটা এসে পড়ে তার ওপর।

২০১৭ সালের দিকে যখন প্রথম ফ্রিল্যান্সিং করে আয় শুরু করেন, তখন তাদের বাড়িতে ছিল না বিদ্যুৎ। যে কারণে এক বছর ধরে কয়েক কিলোমিটার দূরে হালিমা দিঘিরপাড় এলাকায় গিয়ে কাজ করতে হতো। পরে আরও কয়েক বছর বাড়ির পাশে রিকশা চালকেরা থাকেন এমন একটা টিনের ঘরের কিছু অংশ ভাড়া নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। যেহেতু রাতে কাজ করা হতো, সে কারণে বেশির ভাগ রাতে ল্যাপটপ নিয়ে এই জায়গাগুলোতে বসে থাকা লাগত তার।

জাহিদ বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে ফাইভার, আপওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি তার বিদেশি কয়েকজন গ্রাহক রয়েছেন। যারা কাজের জন্য তাকে মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করেন। জাহিদের আয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, 'সব মাসে সমান আয় হয় না। সাধারণত এক থেকে দেড় লাখ টাকা হয়। কখনও এর চেয়ে বেশি হয় আবার কখনও চল্লিশ পঞ্চাশ হাজারের বেশি হয় না।' তবে বছরে যে টাকা আয় হয়, তাতেই বেশ স্বচ্ছলভাবে তিনি সংসার চালাচ্ছেন।

জাহিদ হাসান জয় কালবেলাকে বলেন, কাজ আয়ত্ত করতে প্রথম দিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। গ্রামে বসে কাজ করার ক্ষেত্রে যাথাযথ গাইডলাইন পাওয়া কঠিন। এছাড়াও বিদ্যুত, ইন্টারনেট কানেকশন সমস্যার কারণে রিমোট এরিয়াগুলো থেকে কাজ করতে সমস্যা হয়। যারা নিজেরা কখনও ফ্রিল্যান্সিং করে নাই তথা এই ফিল্ডের অভিজ্ঞতা নাই; গ্রাম এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় তারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং এর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। যে কারণে প্রশিক্ষণ নিয়েও যথাযথভাবে কাজ করতে পারেন না অনেকেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিশুশ্রম নিজের ঘর থেকে বন্ধ করতে হবে: শ্রমমন্ত্রী

অস্ত্রসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

জামিন পেলেন ‘গরিবের ডাক্তার’ মিশু

এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের 

ধূমপান ও তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ডিএনসিসি বদ্ধপরিকর

চলমান তাপপ্রবাহ কমবে কি না, জানাল আবহাওয়া অফিস

‘সুখকর নয়’ জাপানের সঙ্গে ব্রাজিলের শেষবারের স্মৃতি

কুড়িগ্রামে পানিবন্দি ২০ গ্রামের মানুষ

রাবিতে ছাত্রদলের সিট দখলে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন 

অভিনেত্রীর পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ, নির্মাতা বলছেন ভিন্ন কথা

১০

বিশ্বসেরা ব্র্যান্ড থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা: একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়নের নতুন পাঠ

১১

সেবা নিতে এসে মানুষ যেন হয়রানি না হন : নরসিংদী জেলা প্রশাসক

১২

সোনালী ব্যাংক ও ল্যাবএইডের মধ্যে কর্পোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি

১৩

কবে কোথায় হতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী আলোচনা? 

১৪

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১৫

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল 

১৬

এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব

১৭

শাহ্ সিমেন্টের ‘আর্কিটেকচার: কানেক্টিং গ্লোবাল মডারনিটি উইথ লোকাল আইডেন্টিটি’ সেমিনার

১৮

চুরিতে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ

১৯

গ্রুপ পর্বের সেরা একাদশ ঘোষণা করল অপ্টা

২০
X