রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ তুলে হত্যা মামলা প্রত্যাহারের পাঁয়তারা 

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. মন্টুর পরিবারের সদস্যরা। ছবি : কালবেলা
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. মন্টুর পরিবারের সদস্যরা। ছবি : কালবেলা

রাজশাহীর চারঘাটে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ২০০৯ সালে খুন হন মো. মন্টু নামে এক ব্যক্তি। ওই ঘটনায় চারঘাট থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও শেষ হয়েছে রাজশাহীর আদালতে। যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিচার থেকে রেহাই পেতে নানা পাঁয়তারা শুরু করেছেন ওই হত্যা মামলার আসামিরা। এর অংশ হিসেবে হত্যা মামলাটিকে ‘রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে প্রত্যাহারের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা– এমন অভিযোগ নিহত মন্টুর পরিবারের সদস্যদের।

সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী সিটি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্টুর স্ত্রী লাভলী বেগম, ছেলে সেলিম রেজা, মেয়ে শিরিনা খাতুন ও মামলার বাদী রঞ্জু আহমেদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ৬ অক্টোবর চারঘাট উপজেলার রায়পুরের বাসিন্দা রঞ্জুকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। রঞ্জুর চিৎকার শুনে তার বাবা শামসুল ইসলাম এবং দুই ভাই মনিরুল ইসলামও মো. মন্টু ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মন্টু মারা যান।

সংবাদ সম্মেলনে মন্টুর স্বজনরা বলেন, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটিকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা বলে দাবি করে সেটি প্রত্যাহারের জন্য গত ৩০ জুন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন আসামি ইমদাদুল হক ওরফে আবু তালেব, মো. রবিউল, আবু তাহের, রেজাউল হক, বজলু, মো. ওহাব, নজরুল ইসলাম ও আবদুল খালেক।

তাদের দাবি, তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী রাজনৈতিক শত্রুতাবশত আসামি করেছে। আসামিদের আবেদনপত্রে ‘জোর সুপারিশ’ জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মতামত চেয়ে আবেদনগুলো গত ২৯ জুলাই জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে মামলার বাদী রঞ্জু আহমেদ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের কাছে লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আইন-১ শাখায়ও লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছেও অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

রঞ্জু জানান, তিনি নিজে বিএনপির কর্মী। তার পরিবার বিএনপির সমর্থক। ২০০৯ সাল থেকে মামলা পরিচালনা করছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা। মামলা তোলার জন্য একাধিকবার চাপ দেওয়া হয়েছে দাবি করে রঞ্জু বলেন, তিনি রাজি না হওয়ায় রাজনৈতিক মামলা বলে এটিকে প্রত্যাহারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে মামলার প্রধান আসামি ইমদাদুল হক ওরফে আবু তালেব বলেন, আমরা বিএনপি করি। তাই মামলায় আসামি করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদও সে সময় বাদী রঞ্জুকে আপস করার কথা বলেছিল; কিন্তু তিনি পাত্তাই দেননি। এখন চাঁদ চেয়ারম্যান (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ) সুপারিশ করেছেন।

সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই, আমার কোনো মন্তব্য নেই। এটা পারিবারিক বিরোধে খুন না কি রাজনৈতিক খুন, সেটা এলাকায় গিয়ে খোঁজ নেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা / তারেক রহমানকে এক দিনের মধ্যে ট্রাভেল পাস দেবে সরকার

১১ পদের দশটিতেই বিএনপির জয়

‘বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি’

মাঝ আকাশে দুই বিমানের সংঘর্ষ

প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ চালুর সিদ্ধান্ত বিসিবির

ক্ষমতায় গেলে আন্দোলন লাগবে না, দোরগোড়ায় পৌঁছাবে সেবা : জামায়াত আমির

সচিবালয়ে আগুন

বিজয়ের মাসের কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি

৫টি বিদেশি পিস্তলসহ যুবক আটক

আইপিএল থেকে অবসর নিলেন আন্দ্রে রাসেল, থাকছেন অন্য ভূমিকায়

১০

ঘূর্ণিঝড় : ১১ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে যা জানা গেল

১১

ব্রণ দূর করতে অ্যালোভেরা যেভাবে ব্যবহার করবেন

১২

কর্মবিরতি ঘোষণা / সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ

১৩

বিএনপি নেতা ফজলুকে ট্রাইব্যুনালে তলব

১৪

আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসী রুবেলের মৃত্যু

১৫

বিসিএসের সহযোগী অধ্যাপকরা একই পদে বছরের পর বছর

১৬

‘সুখবর’ পেলেন বিএনপির আরও ৬ নেতা

১৭

মাদক রাখার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

১৮

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেছেন ঢাকাস্থ রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত

১৯

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের

২০
X