মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

‘শেষবারের মতো আমার ছেলের মুখটা দেখতে চাই’

সৌদি আরবে মৃত মো. হাবিব খান। ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবে মৃত মো. হাবিব খান। ছবি : সংগৃহীত

‘আমি মরে যাইতাম, আমার বুকের ধন সন্তানটা যদি বাঁইচা থাকত। তাহলে মরেও শান্তি পাইতাম। শেষবারের মতো ছেলের মুখটা এক নজর দেখতে চাই। কেউ আমার ছেলের লাশটা আইন্না দেও।’ কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন হোসনে আরা বেগম।

তিনি জানান, সৌদি আরবে হাসপাতালে রোববার (৫ অক্টোবর) মারা গেছে তার ছেলে মো. হাবিব খান।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের নবকলস গ্রামের মো. মিজানুর রহমান খানের ছেলে মো. হাবিব খান।

সরেজমিন জানা যায়, মিজানুর রহমান খান ও হোসনে আরা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে হাবিব খান (২৫)। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, ছোট দুই মেয়ে বাড়িতেই আছে। ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান তিনি। সৌদির মক্কায় একটি আবাসিক হোটেলে কিছুদিন কাজ করার পর আর কাজ পাননি। টাকার অভাবে না খেয়ে দিন কাটত। ছোটখাটো কাজ জুটলেও পারিশ্রমিক তেমন পেতেন না। খাবারের কষ্টে ও দুশ্চিন্তায় কিছুদিন আগে হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হয়। তারপর এক সহকর্মী তাকে মক্কার একটি হাসপাতাল নিয়ে ভর্তি করেন। রোববার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌদিতে মারা যান তিনি। তার মরদেহের অপেক্ষায় আছে বাবা-মা-বোনসহ স্বজনরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হাবিব উপজেলার মতলব সরকারি কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে জীবিকার সন্ধানে যান সৌদি আরব। সৌদির মক্কা নগরে কিছুদিন একটি আবাসিক হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করার পর কাজ ছেড়ে দেন। এরপর সেখানকার এক দালালের অধীনে থেকে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো কাজ পেলেও তেমন পারিশ্রমিক পেতেন না। অধিকাংশ সময় কাটাতেন বসে বসে। নিজের হতাশা ও কষ্টের কথা জানাতেন বাবা-মা ও বোনসহ স্বজনদের।

কান্নাজরিত কণ্ঠে হাবিবের বড় বোন সুইটি আক্তার বলেন, ভাইয়ের লেখাপড়া বাদ দিয়ে সুখের জন্য বিদেশে পাঠালাম। আমার আদরের ভাইটাকে কীভাবে আল্লাহ নিয়ে গেল। আমার ভাইকে না নিয়ে আমাকে নিয়ে যেত আল্লাহ। আমার ভাইয়ের বিদেশে কাজ ছিল না। টাকার অভাবে না খেয়ে ছিল। না খেয়ে থেকে আমার ভাই অসুস্থ হয়ে গেছে। এই অসুস্থ থেকেই মৃত্যু হয়েছে।

হাবিবের বাবা মিজানুর রহমান কালবেলাকে বলেন, আমার তিন মেয়ে এক ছেলে। বড় আশা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠাইছিলাম। হঠাৎ এক খবরে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ল। আমার একমাত্র ছেলে হাবিব। বয়স মাত্র ২৫ বছর। ধার করে বিদেশ পাঠাইলাম। ১২ দিন আগে জানতে পারি ছেলে হার্ট অ্যাটাক করেছে। তাকে মক্কার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর রোববার গভীর রাতে সেখানকার তার এক সহকর্মীর ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি, এদিন স্থানীয় সময় রাত ১১টায় ছেলের ওই হাসপাতালে মারা গেছে।

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মো. সালেহ আহাম্মদ বলেন, বিদেশ থেকে তার মরদেহ আনার বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা বিজয়‌ কারাগারে

সমন্বিত উদ্যোগেই চট্টগ্রামের সংকট সমাধানের ঘোষণা নতুন সিডিএ চেয়ারম্যানের

বেনজীরকে দ্রুত দেশে আনা হবে : দুদক 

খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার

সীমান্তে পুশইন চেষ্টা / শূন্যরেখায় চার শিশুসহ ১২ জন অসুস্থ 

সংসদে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ / আমাদের এইচএসসিকে সিঙ্গাপুরে ক্লাস সিক্সের সঙ্গে তুলনা করা হয়

বেদখল থেকে উদ্ধার, নতুন রূপে ফিরছে চট্টগ্রামের জাম্বুরী মাঠ

কেন বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও কমছে স্বর্ণের দাম?

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নিয়ে নতুন ঘোষণা

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া হুঁশিয়ারি

১০

চট্টগ্রামে হালিশহরে আউটলেট খুলল ‘মি. ডিআইওয়াই’

১১

১১ বছরে লিটনের ‘প্রথম’ ফিফটি

১২

আজ বিশ্ব গোসল দিবস

১৩

ওমানে ট্যাংকারে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু

১৪

আমিনবাজারে ডিবির জালে মাদকচক্র, আটক ৩

১৫

ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

১৬

বেরোবি ও বিসিকের ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

১৭

মৌসুমি বায়ু সক্রিয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস

১৮

‘১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, ৮০ হাজারই হবেন নারী’

১৯

ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন / বিশ্বকাপ আসতেই কেন সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তরা

২০
X