কাজী ইমরান, লোহাগড়া (নড়াইল)
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চরের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে ২০ লাখ টাকার সেতু, নেই সংযোগ সড়কও

চরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ২০ লাখ টাকার সেতু। ছবি : কালবেলা
চরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ২০ লাখ টাকার সেতু। ছবি : কালবেলা

নড়াইলের লোহাগড়ায় মধুমতি নদীর চর এলাকায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ বছর আগে নির্মিত হয়েছে একটি সেতু। বিল থেকে ফসল আনা-নেওয়ার জন্য নির্মিত ওই সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়কও নেই।

দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি এলাকাবাসীর কাছে ‘বিষফোড়া’য় পরিণত হয়েছে। এ চিত্র লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মাকড়াইল গ্রামে।

লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ১৫৬ টাকা ব্যয়ে মাকড়াইল পাকা রাস্তা হতে মধুমতি নদীর চরের বিল পর্যন্ত রাস্তায় জাকারিয়ার বাড়ির নিকট ২৪ ফুট দৈর্ঘ্য একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন, লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিস।

এলাকাবাসী জানান, বর্ষার সময় পানি বাড়লে বিল থেকে ফসল আনা-নেওয়ার সুবিধার জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এটি বিল থেকে ফসল আনা-নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে এখন এটি ব্যবহার করতে হলে আগে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে।

মাকড়াইল গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম মোল্যা বলেন, সরকারের টাকা খরচ করে সেতু করেছে। কিন্তু সেতুর দুপাশে কোনো রাস্তা নেই। এই সেতু আমাদের কোনো উপকারে আসে না। যদি মাটি ভরাট করে দুইপাশে রাস্তা হতো তাহলে আমাদের উপকার হতো।

একই গ্রামের মশিউর রহমান বলেন, খাল নেই, নদী নেই, রাস্তা নেই, খালি খালি অকারণে বিলের মাঝে একটা ব্রিজ করে থুইছে। এই ব্রিজ আমাদের কোনো উপকারে লাগে না।

মাকড়াইল গ্রামের বাসিন্দা লিমন শিকদার বলেন, এখানে যে ব্রিজটা হইছে এর সঙ্গে সংযোগ সড়ক না হওয়ায় আমাদের পুরো গ্রামের ক্ষতি। আমরা একটা ভ্যান নিয়েও বিলে যেতে পারি না, দেড় কিলোমিটার ঘুরে আমাদের বিলে যেতে হয়। ব্রিজের দুপাশ দিয়ে মাটি ভরাট করে রাস্তা করে দিলে আমরা স্থানীয়রা এর সুফল ভোগ করতে পারব।

লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শরিফ মোহাম্মদ রুবেল কালবেলাকে বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তখন কেন, কী কারণে, সংযোগ সড়ক করা হয়নি সেটা আমার জানা নেই। সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্রিজের দুপাশে চলাচলের জায়গাটি মাটি দ্বারা ভরাট করে কীভাবে চলাচলের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেড়ে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

মরিশাসে ফের চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

২৩ ঘণ্টা ধরে মাদারগঞ্জ-ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ

খাদ্যের অপচয় রোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী কার্যক্রম চলমান : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিয়ে ইতিহাস গড়েছে যেসব দেশ

বিয়ের আগের শারীরিক সম্পর্ক চরিত্রহীনতার প্রমাণ নয় : ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের টিন বিক্রির অভিযোগ

‘মমতার বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে হাদি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি’

যুদ্ধবিরতির পরেও লেবাননে সাড়ে ৩ হাজার বার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ঈদে ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পাননি, সংসদে ক্ষোভ

১০

১৪০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশি ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১১

‘১১০ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ কর্মমুখী কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চলছে’

১২

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান-ইয়েমেনের পদক্ষেপে খুশি হামাস

১৩

পাঁচ বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

১৪

সরকারের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী

১৫

বাসায় মিলল মুক্তিযোদ্ধার পচাগলা লাশ

১৬

বদলা নিল ইরান, ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলা

১৭

এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতির পরদিনই বাড়ল অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া

১৮

১৩ ছক্কার তাণ্ডবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড বাংলাদেশি ব্যাটারের

১৯

ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

২০
X