

নতুন বছরকে বরণ ও পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকের ঢল নেমেছিল পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায়।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গভীর রাত পর্যন্ত অনেক পর্যটক সমুদ্র সৈকতে অবস্থান করেন।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আতশবাজি, ফানুস ও যেকোনো ধরনের আনন্দ-উল্লাস থেকে বিরত থাকার জন্য প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা ছিল। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে কুয়াকাটায় প্রকাশ্যে আতশবাজি ফোটানোর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গভীর রাতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে হঠাৎ আতশবাজির বিকট শব্দে শিশু, নারী ও বয়স্ক পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই টুরিস্ট পুলিশ বক্সের পাশেই প্রকাশ্যে আতশবাজি ফোটানো হয়।
নতুন বছর উপলক্ষে সৈকতে ভিড় করা পর্যটকদের কেউ সূর্যাস্ত ও রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন, কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি তুলছিলেন। এমন আনন্দঘন মুহূর্তেই বিকট শব্দে আতশবাজি ফোটায় অনেকেই ভীত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ছোট শিশুদের কান্না ও দৌড়াদৌড়িতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
একাধিক পর্যটক অভিযোগ করে বলেন, হঠাৎ আতশবাজির শব্দে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ নিরাপত্তার অভাবে দৌড়ে সরে যান। তাদের ভাষ্য, ওই সময় এলাকায় কোনো কার্যকর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ চোখে পড়েনি।
ঢাকা থেকে আগত পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে এভাবে আতশবাজি ফোটানো অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ বক্সের পাশেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কোথায়?
আরেক পর্যটক নাসরিন আক্তার বলেন, আমরা পরিবার নিয়ে এসেছি। বিকট শব্দে বাচ্চারা খুব ভয় পেয়েছে। প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল।
এ বিষয়ে টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, আতশবাজি ফোটানোর কোনো অনুমতি ছিল না। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় শোকের বিষয়টি সবাইকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, পর্যটন এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের নামে নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের তদারকি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন