

রাগ হলে অনেকেই তা প্রকাশ না করে নীরব থাকেন। অনেকের ধারণা, রাগ দেখানো মানেই দুর্বলতা প্রকাশ— আর তাতে তৈরি হতে পারে অশান্তি, নষ্ট হতে পারে সম্পর্ক। তাই বন্ধুত্ব, দাম্পত্য বা পারিবারিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বহু মানুষ নিজের রাগ নিজেই চেপে রাখেন।
কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তা শরীর ও মনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO)-এর Stress & Mental Health সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাগ দমন করলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে। এর ফলে ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ঝুঁকি, হজমের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা শারীরিক জটিলতা।
দিনের পর দিন মনের ভেতর রাগ জমে থাকছে? কারও ওপর ভীষণ রাগ হলেও কিছুতেই তা প্রকাশ করতে পারছেন না, বরং নিজের ভেতরেই পুষে রাখছেন? গবেষণায় দেখা গেছে, এই অভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে অ্যাংজাইটি, বিষণ্নতা, প্যানিক অ্যাটাক, এমনকি হঠাৎ করে অতিরিক্ত রাগ বিস্ফোরণের মতো সমস্যাও।
এ বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অনিরুদ্ধ সেন বলেন, ‘রাগ চেপে রাখা মানে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। এতে মানসিক চাপ জমতে থাকে, যা একসময় শারীরিক অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
তাহলে কি রাগ প্রকাশ করলেই বিপদ কমে যাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগ প্রকাশ করা জরুরি, তবে তা অবশ্যই আক্রমণাত্মকভাবে নয়। শান্তভাবে, সংযত ভাষায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলে মানসিক চাপ কমে এবং সম্পর্কও থাকে সুস্থ।
মনোবিদ ডা. সৌম্য ঘোষ বলছেন, ‘রাগকে দমন নয়, নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রকাশ করাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।’
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, রাগ সামলাতে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দিয়ে কিছুটা সময় নেওয়া, নিজের অনুভূতির কথা স্পষ্টভাবে বলা, নিয়মিত শরীরচর্চা ও মেডিটেশন করা এবং প্রয়োজন হলে মনোবিদ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জরুরি।
সূত্র : টিভি নাইন বাংলা
মন্তব্য করুন