কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লায় ফসল উৎপাদনে পলিনেট হাউসে ঝুঁকছেন কৃষকরা

পলিনেট হাউসে ফসল উৎপাদন করছেন কৃষকরা। ছবি : কালবেলা
পলিনেট হাউসে ফসল উৎপাদন করছেন কৃষকরা। ছবি : কালবেলা

কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় পলিনেট হাউসে ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি কিংবা প্রখর তাপপ্রবাহ থেকে ফসল রক্ষা করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হওয়ায় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পলিনেট হাউস তৈরিতে কৃষকের আগ্রহ বেড়েই চলেছে। পলিনেট হাউস বীজ থেকে চারা উৎপাদন এবং চারা থেকে ফসল উৎপাদন আবার কীটপতঙ্গ থেকে বীজতলা ও ফসল রক্ষা করতে বেশ কার্যকর পদ্ধতি।

জানা গেছে, পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে একজন কৃষক সারা বছর সবজি চাষ করতে পারেন। ফলে গ্রীষ্মকালেও শীতকালীন সবজি মুলা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, গাজর ইত্যাদি ফসল যেমন উৎপাদন করা যাবে আবার শীতকালেও গ্রীষ্মের ফসল উৎপাদন করা যায়। এতে করে সবজি চাষে একধরনের বৈচিত্র্য আসবে এবং আয়ের নতুন নতুন উৎসের সন্ধান পাওয়া যাবে।

সরেজমিনে কুমিল্লার জেলার দেবিদ্বার, বুড়িচং ও চান্দিনা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পলিনেট হাউসে সাধারণত উচ্চমূল্যের ফসল ক্যাপসিকাম, ব্রোকলি, পুদিনা, রক মেলন, রঙিন ফুলকপি, বাঁধাকপি ও লেটুস উৎপাদন হলেও বর্তমানে সাধারণ সবজি চাষেও এর ব্যবহার বাড়ছে। বারোমাসি সবজির পাশাপাশি চারা উৎপাদনেরও এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পলিনেট হাউসে বীজ বা ফসল উন্নতমানের পলিথিনের আচ্ছাদন দিয়ে মোড়ানো থাকায় সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ভেতরে প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি করতে পারে না। এ জন্য অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ফসল অক্ষত থাকে। আর এই পদ্ধতিতে কৃষক সারা বছর সবজি চাষ করতে পারবেন। এতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সব ধরনের সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে সফলতাও পেয়েছেন তারা।

দেবিদ্বার উপজেলার বিংলাবাড়ী, ফতেহাবাদ, আলমপুর ও দামঘর, বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও পিহর এবং চান্দিনাউপজেলার এতবারপুর ও চিলরা এলাকা ঘুরে বেশ কয়েকটি পলিনেট হাউস লক্ষ্য করা গেছে।

বিংলাবাড়ী এলাকার কৃষক মাসুদ মিয়া জানান, পলিনেট হাউস ব্যবহার করে উন্নতমানের বীজ উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন তিনি। এতে এলাকার অনেক কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে পলিনেট হাউসে উৎপন্ন চারার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। এখান থেকে উন্নতমানের বীজের চারা পেয়ে খুশি কৃষকেরা। এভাবে চারার উৎপাদনে খরচ কম হয় ফলে দামও তুলনামূলক কম থাকে। এই পদ্ধতিতে কৃষকরা সারা বছরই সব ধরনের সবজি চাষ করতে পারেন। তাই অনেক কৃষকই এখন পলিনেট হাউস নির্মাণে ঝুঁকছেন।

দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় বলেন, বারোমাসি সবজি চাষের জন্য পলিনেট হাউস দেশে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তিতে এক নতুন সংযোজন। পলিনেট হাউসে ফসল উৎপাদন ২৫ শতাংশ বেশি হয়। পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণও ৭৫ শতাংশ কম হয়। প্রাথমিকভাবে খরচ কিছুটা বেশি হলেও এতে ফসলের উৎপাদন খরচ অত্যন্ত কম হবে। তাই এতে ফসল উৎপাদন সহজ হবে। পলিনেট হাউসের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ফসল যেমন ফলবে তেমনি মৌসুমি সবজিও যেকোনো সময় উৎপাদন করা সম্ভব। পাশাপাশি চারা উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হবে। ফলে এ অঞ্চলে সবজি চাষে বৈচিত্র্য আসবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনী প্রচারে মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ

জিয়া পরিষদের এক সদস্যকে গলা কেটে হত্যা

আমিও আপনাদের সন্তান : তারেক রহমান

মায়ের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না : লায়ন ফারুক

সিলেটে কঠোর নিরাপত্তা

জনসভা সকালে, রাত থেকে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

আগামী প্রজন্মকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান সেলিমুজ্জামানের

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

বিএনপির নির্বাচনী থিম সং প্রকাশ

ক্রিকেটারদের সঙ্গে জরুরী বৈঠকে বসবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

১০

শ্বশুরবাড়িতে তারেক রহমান

১১

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ সদস্য

১২

সোনাগাজী উপজেলা ও পৌর বিএনপির সঙ্গে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতবিনিময়

১৩

মেহেরপুরে জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

১৪

শ্বশুরবাড়ির পথে তারেক রহমান

১৫

ভোজ্যতেলে পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে হবে

১৬

পে-কমিশনের প্রস্তাবে কোন গ্রেডে বেতন কত?

১৭

নারায়ণগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

১৮

শাহজালালের মাজার ও ওসমানীর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

১৯

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

২০
X