মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:২৯ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মেঘনাসহ ৭টি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে উপজেলা জুড়ে আতংক

মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন। ছবি : কালবেলা
মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন। ছবি : কালবেলা

বরিশাল জেলা সদর থকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পূর্ব- উত্তর দিকে অবস্থিত এবং সর্বাধিক নদী পরিবেষ্ঠিত একটি উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ। মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনাসহ ৭টি নদীর তীব্র ভাঙনে গোটা উপজেলায় আতংক বিরাজ করছে। নদীর তীরবর্তী হাজারো পরিবারে নির্ঘুম রাত কাটছে। ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীর ঘেঁষা বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং আশপাশের গ্রাম ও বসতভিটা। সীমিত হয়ে আসছে উপজেলার মানচিত্র।

চলতি বর্ষায় ৭টি নদীর অব্যাহত ভাঙনে ৮টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার বসতভিটা, ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শত শত একর ফসলি জমি, পাকা রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান- মেঘনা, কালা বদর, গজারিয়া, তেতুলিয়া, মাস কাটা, ইলিশা ও লতা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ৫ নং মেহেন্দিগঞ্জ ইউনিয়ন, উলানিয়া, গোবিন্দপুর, দড়িচর খাজুরিয়া, জয়নগর, ভাষানচর, জাঙ্গালিয়া, চরগোপালপুর,আলীমাবাদ ও শ্রীপুর ইউনিয়ন। এখানকার মানুষের বড় দুর্যোগ নদী ভাঙন। প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেয়ালের কারণে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে বিপন্ন।

জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন হাওলাদার দৈনিক কালবেলাকে বলেন, গজারিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে তার ইউনিয়নের ৫টি ওয়ার্ড নদীতে বিলীন হতে চলছে। বিলীন হয়েছে ৩ শতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হুমকির মুখে চরহাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চুনারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাদের আলী স্মৃতি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রহমানেরহাট বাজার। রহমানেরহাট লঞ্চঘাট এলাকায় সরকারি বরাদ্দে এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তা ৬মাসের মাথায় বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ৪-৫ কোটি টাকার পাকা রাস্তা বিলীন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল বারী মনির জানান, তেতুলিয়া নদীতে তার ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে, ২টি ওয়ার্ডের ৭০ শতাংশ বিলীন হয়ে গেছে। ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ২ শতাধিক বসতভিটা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র দ্বিতল ভবন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে লেঙ্গুটিয়া মুসলিম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদী ভাঙন রোধে ৬০০ ফিট জিওব্যাগ ফেলানো হয়। ৬মাস মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আনিসুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়ায় দোয়া মাহফিল

খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করেই বিএনপি সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে : দিপু

এলপি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা জ্বালানি উপদেষ্টার

খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করছে : সেলিমুজ্জামান

পুরস্কার ও স্বীকৃতি মানুষের দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয় : মাউশি মহাপরিচালক

ইইউ পর্যবেক্ষককে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ জানাল জামায়াত

খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠানে ইমামকে অনন্য সম্মান (ভিডিও)

জঙ্গল সলিমপুর : ৩০ হাজার কোটি টাকার ‘নিষিদ্ধ ভূখণ্ড’

চট্টগ্রাম বন্দরে ৫৭ হাজার টন গম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ

বিলে পড়ে ছিল পাখি শিকারির মরদেহ

১০

আতিউরসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

১১

এবার মাদ্রাসায় ছুটি বেড়ে ৭০ দিন

১২

পাকিস্তানেও বাড়ল স্বর্ণের দাম, কততে বিক্রি হচ্ছে সেখানে

১৩

শাবিপ্রবি জিয়া পরিষদের সভাপতির সঙ্গে অশোভন আচরণের নিন্দা

১৪

কুমার নদে ভাসছিল যুবদল নেতার মরদেহ

১৫

চেক ডিজঅনার মামলায় ইভ্যালির রাসেল-শামীমা কারাগারে

১৬

দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত

১৭

ঢাবির কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

১৮

আইজিপির সঙ্গে ইউনেস্কো প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

১৯

সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিলের মুনাফার হার নির্ধারণ

২০
X