গরমের রেশ এখনো কাটেনি ঠিকমতো। এরইমধ্যে শীত শুরু হয়েছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। দিনে গরম আবহাওয়া থাকলেও রাত গভীর হতে না হতেই শুরু হয় শীতের তীব্রতা। গোটা এলাকা রাতভর কুয়াশায় ঢেকে থাকে।
দিনে গরম আর রাতে ঠান্ডা অনুভূতির কারণে দিন দিন বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ঠান্ডাজনিত এসব রোগ এড়িয়ে চলতে সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় উত্তরের এই জনপদে প্রতিবছর শীতের আগমন ঘটে কিছুটা আগেভাগে। আর শীত বিদায়ও নেয় দেরিতে। রাতভর টিপটিপ বৃষ্টির মতো ঝরে কুয়াশা। সকাল ৮টার পর ঝলমলে রোদের দেখা মেলে। দিনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। দিনে গরম, রাতে হালকা ঠান্ডা ও ভোরে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর এই জনপদের বেশির ভাগ মানুষই মোটা পোশাক পরে বের হচ্ছেন।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২১৩ জন রোগী। এরমধ্যে পুরুষ ৫৭ জন, নারী ৯৩ জন এবং নবজাতক ও শিশু ৭৭ জন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ৫২ জনের মধ্যে বেশিরভাগই ঠান্ডাজনিত জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া এবং নিউমেনিয়ায় আক্রান্ত। আর নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রটিতে ভর্তি ৮টি নবজাতক প্রায় একই ধরনের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা তিনটায় তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভাপ্রাপ্ত কর্মকতা মো. রাশেল শাহ বলেন, তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। এ ছাড়া দিনের বেলা রোদ ওঠায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে। এতে দিন রাতে তাপমাত্রার ব্যবধান বাড়ছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে সহকারী পরিচালক ডাক্তার এস আই এম রাজিউল করিম রাজু বলেন, বর্তমানে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
পঞ্চগড় জেলা সিভিল সার্জন মোস্তফা জামান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দিনে গরম এবং রাতে হালকা ঠান্ডা থাকায় মানুষের মধ্যে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে যত্ন নিতে হবে, যা সব সময়ই নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া এই সময়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ও শাকসবজি বেশি খেতে হবে।
মন্তব্য করুন