আব্দুর রহিম মোল্লা, জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পিঠা বেচেই ছেলেকে ইতালি পাঠাতে চান আবুল হোসেন

জাজিরার কাজিরহাট বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের পাশে ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন আবুল হোসেন। ছবি : কালবেলা
জাজিরার কাজিরহাট বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের পাশে ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন আবুল হোসেন। ছবি : কালবেলা

শরীয়তপুরের জাজিরায় শীত মানেই পিঠাপুলির দিন। পিঠার ঘ্রাণে ম ম করবে চারদিক। এমন কিছু ভাবনাই তো বাঙালির মানসপটে জায়গা করে নেয়। হালকা শীতল আমেজ নিয়ে আসা বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় এখন পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। জমে উঠেছে রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকান।

চলতি পথে থেমে কেউ বা আড্ডায় বসেই সন্ধ্যার নাশতাটা সেরে নিচ্ছেন গরম গরম ভাপা পিঠা দিয়ে। বিক্রেতার সঙ্গেও আলাপ করে জানা গেল, বিক্রিও বেশ ভালোই। তাই এই শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রিকে বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাজিরার কাজিরহাট বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের পাশেই বসেছে আবুল হোসেন ভায়ের ভাপা পিঠার দোকান। আগাম ধানের ভাপা পিঠা খেতে দোকানের চারদিকে ঘিরে আছে ক্রেতারা। নতুন ধানের পিঠার সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যাও। ধানের তৈরি করা চালের গুঁড়া, খেজুরের গুড় ও নারিকেল দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভাপা পিঠা। প্রতি পিস স্পেশাল ভাপা ২০ টাকা, নরমাল ভাপা পিঠা ১০ টাকা। দাঁড়িয়ে খাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই নিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের পরিবারের জন্য।

ভাপা পিঠা বিক্রেতা আবুল হোসেন (৫০) বলেন, আমি ১৫ বছর যাবৎ এখানে ভাপা পিঠা বিক্রি করি। মানুষ আমার পিঠা প্রচুর পছন্দ করে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করছি। শীতের তীব্রতা বাড়লে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হবে। সেই অপেক্ষায় রয়েছি। শীত আসলে আমি এই ৪ মাস বাজারে ভাপা পিঠা বিক্রি করি। অন্য সময় আমি ভ্যানচালক।

তিনি আরও বলেন, শীত আসলে কষ্ট করে আর ভ্যান চালাই না। শীতের মধ্যে ভাপা পিঠার প্রচুর চাহিদা এখানে। তাই শীতের এই ৪ মাস প্রতিদিন পিঠা বিক্রি করি। এই চার মাস আমার বেচাকেনা অনেক ভালো থাকে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করিয়েছি, বাড়িতে নতুন ঘর দিয়েছি। এখন ছেলেকে ইতালি পাঠাব ইনশাআল্লাহ।

কাজিরহাট ব্রাক অফিস এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম বলেন, আমি প্রতিনিয়ত এখানে পিঠা খেতে আসি। অন্য সব যায়গার তুলনায় এখান কার পিঠার মান ভালো। না খেলে আসলে বুঝবেন নাহ। তাই বন্ধুদের নিয়ে এখানেই চলে আসি পিঠা খেতে।

মনাই সৈয়াল কান্দির খবির বেপারি বলেন, এখান কার পিঠা খুবেই মজা। আমার স্ত্রী বলেছে, পিঠা নিয়ে যেতে তাই চলে আসছি আবুল ভায়ের ভাপা পিঠার দোকানে। স্থানীয়রা সবাই আবু পিঠা নামেই তাকে চিনে।

কথা হয় মোহাম্মদ আলী মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, গ্রামে শীত নেমেছে। শীত আসার পর থেকে পিঠা বিক্রি শুরু হয়েছে। আমার পছন্দের ভাপা পিঠা। এক সময় মায়ের হাতে বানানো পিঠা খেয়েছি।

আকবর আলী খান জানান, প্রতিদিন কাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় চোখে পড়ে এ শীতের পিঠা। আর শীতকালীন সময়ে এ পিঠার লোভকে সামলাতে পারে। তাই প্রতিদিন পিঠা খেতে এখানে আসি।

পিঠে খেতে আসা শাহালোম নামে এক ক্রেতা বলেন, নতুন ধানের ভাপা পিঠা খেয়ে অনেক ভালো লাগছে। ধানের পিঠার আগাম স্বাদ পেলাম।

কাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী সুজন কাজী বলেন, আমি প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর এসব দোকান থেকে পিঠা খাই। আগে যদিও বাড়িতে এসব পিঠা বানানোর হিড়িক পড়ত এখন তা আর দেখা যায় না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যেভাবেই হোক, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র দখল করবেই : ট্রাম্প

ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে এখনও অটল বিসিবি

মাইক্রোবাস চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আজ থেকে নতুন দামে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

রোড টু ২৬: ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা, কবে কখন ম্যাচ

আলোচিত সেই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন বাংলাদেশের

ইসিতে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম চলছে

সিরিয়ার আলেপ্পো ছেড়ে যাচ্ছেন কুর্দি যোদ্ধারা

দক্ষিণ ইয়েমেনের সব বাহিনী সৌদি জোটের অধীনে

১০

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি কিশোরীর

১১

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল প্রস্তুত, মেসিকে নিয়ে যা জানালেন কোচ

১২

খুলনায় আবারও যুবককে গুলি করে হত্যা

১৩

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে দ্বিতীয় পর্বের ভোট চলছে

১৪

পরিত্যক্ত খামার থেকে রাশিদুলের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার

১৫

ঘরের বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করতে গিয়ে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

১৬

আগুনে পুড়ল ৬ ঘর

১৭

আ.লীগ নেতা এখন জামায়াত ইসলামীর ওয়ার্ড আমির

১৮

অবশেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন মার্টিন

১৯

ঢাকার বাতাস আজ খুবই অস্বাস্থ্যকর

২০
X