পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ‘নির্বাচনী সহিংসতায়’ আহত আওয়ামী লীগের কর্মী জাহাঙ্গীর পঞ্চায়েতের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সিরাজুল ফরাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে পিরোজপুরের চরখালী ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।
এর আগে বুধবার বিকেলে মঠবাড়িয়া উপজেলার বাদুরা গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন জাহাঙ্গীর পঞ্চায়েত (৬০) । স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওই রাতে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। তিনি পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামিম শাহনেওয়াজের কর্মী ছিলেন বলে দাবি করেন প্রার্থী। ঘটনার পর জাহাঙ্গীরের স্ত্রী দাবি করেন, তার স্বামী আওয়ামী লীগ করতেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী শামিম শাহনেওয়াজের সমর্থন করায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তবে পুলিশ সুপার বলেছেন, নির্বাচনী সহিংসতায় নয়, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে জাহাঙ্গীর পঞ্চায়েতকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে জখম করে। পরে হাসপাতালে তিনি মারা যান। জাহাঙ্গীরের ওপর হামলার পর রাতেই থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী বুলু বেগম। মামলায় হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকেলে জাহাঙ্গীর পঞ্চায়েত বাড়ি থেকে স্থানীয় বাদুর বাজারে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা রুজু হলে থানা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে আসামি সিরাজুল ফরাজীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
মন্তব্য করুন