বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

খরস্রোতা বড়াল শুকিয়ে এখন ফসলের মাঠ! 

লাঙ্গল নিয়ে হাল চাষে কৃষকের কর্মব্যস্ততা দেখে বোঝার উপায় নেই এটিই এক সময়ের খরস্রোতা নদী বড়াল। ছবি : কালবেলা
লাঙ্গল নিয়ে হাল চাষে কৃষকের কর্মব্যস্ততা দেখে বোঝার উপায় নেই এটিই এক সময়ের খরস্রোতা নদী বড়াল। ছবি : কালবেলা

লাঙ্গল নিয়ে হাল চাষে কৃষকের কর্মব্যস্ততা দেখে বোঝার উপায় নেই এটিই এক সময়ের খরস্রোতা নদী বড়াল। কালের বিবর্তনে দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে পদ্মার অন্যতম শাখা নদী এই বড়াল।

বড়ালের উৎপত্তি রাজশাহীর চারঘাট থেকে পদ্মা নদীর শাখা হিসেবে। চারঘাট থেকে বাঘা, নাটোরের বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম,পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া এবং ফরিদপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাঘাবাড়ী হয়ে এ নদী হুড়া সাগরে মিশে নাকালিয়া এলাকায় যমুনা নদীতে পড়েছে। বড়াল নদী রাজশাহী, নাটোর, পাবনা এবং সিরাজগঞ্জের আটটি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার বুক চিরে রয়েছে বড়ালের প্রায় ২২ কিলোমিটার নদী পথ।

তবে নানা কারণে নাব্য হারিয়ে বড়াল এখন পরিণত হয়েছে কৃষকের ফসলের মাঠে। নদীর বুকজুড়ে চাষ হচ্ছে ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসল। চাষাবাদের সুবিধার্থে নদীর উঁচু স্থান থেকে মাটি কেটে সমান করছেন কৃষকেরা। ফলে বদলে যাচ্ছে নদীর প্রাকৃতিক গঠন। আর নদীতে ফসল ফলানোর জন্য নানাভাবে নদীতে চাষ করার ফলে সেই মাটি বর্ষা মৌসুমে নদীর তলায় জমে নদীর গভীরতা কমিয়ে দিচ্ছে। নদী পাড়ের মানুষের দাবি- অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বড়ালের নাব্য সংকটের জন্য অন্যতম প্রধান কারণ।

নদীর তীরবর্তী উপজেলাগুলোকে বন্যামুক্ত করা, পানি সংরক্ষণ এবং সেচসুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বড়ালের উৎসস্থলে একটি স্লুইসগেট ও ৪৬ কিলোমিটার ভাটিতে নাটোরের আটঘড়িয়া এলাকায় আরেকটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। এর মাধ্যমেই বাধাপ্রাপ্ত হয় বড়ালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। নদীতে পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে একসময় এ নদীকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেরা।

স্থানীয় জেলে পিন্টু হালদার জানান তার দুর্দশার কথা। তিনি বলেন, পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই নদীতে মাছ ধরে তাদের জীবিকা চলে। নদীতে স্লুইসগেট নির্মাণের আগে ইলিশ থেকে শুরু করে সকল ধরনের দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। নদীর পানি সংকট দেখা দেওয়ায় এখন মাছের দেখা মিলছে না। অন্য কাজ না করতে পাড়ায় পূর্বপুরুষদের পেশা ছাড়তে পারছেন না পিন্টু হালদার। ফলে, অর্থাভাবে দিন পার করছেন নদী নির্ভর এই জেলে।

বাগাতিপাড়া উপজেলার চন্দ্রখইর এলাকার কৃষক জাহেদ মোল্লা বলেন, আগে নদী কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। নদীর আশপাশের কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনে ব্যবহার করা হতো নদীর পানি। বর্তমানে নদীতে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। এছাড়া, নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাজারগুলোতে নদী পথে পণ্য পরিবহনের পূর্ব অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন এই কৃষক।

বড়াল নদী রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও বাগাতিপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী বলেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও বড়াল নদী ধ্বংসের জন্য দায়ি স্লুইসগেটগুলো অপসারণ করা যায়নি। বাগাতিপাড়ার ফুসফুস এই বড়াল নদী। নদী মারা যাওয়ায় চরম বিপর্যয়ে পড়বে আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ। বারবার চেষ্টা করে, নানা দপ্তরে চিঠি দিয়েও নদী রক্ষায় কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখছি না। ছোট ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে নদী এলাকার মানুষকে সম্পৃক্ত করে খুব সহজেই এই নদী খননের মাধ্যমে এর নাব্য ফেরানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, বড়ালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০২০ সালে একটি প্রকল্প দাখিল করে। কিন্তু নানা জটিলতায় আজও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। তবে, সবশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। বড়াল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের আরও জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি বড়াল নদীর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি দ্রুতই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফোনে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ, বাঁশের মাচায় মিলল মরদেহ

সংবাদ সম্মেলনে আসছেন স্পিকার

অবশেষে অবসরের পরিকল্পনা ‘চূড়ান্ত’ করেছেন মেসি!

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

‘লোকে বলে’ গানের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ফারিয়া

হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকল সংসদ সচিবালয়

৪৭ বছর পরও অমলিন মহানায়ক উত্তম কুমার

যমুনার ভয়ংকর ভাঙনে নির্ঘুম চরাঞ্চলবাসী, বিলীন দুই শতাধিক ঘরবাড়ি

নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

১০

আল-আকসায় ইসরায়েলিদের অনুপ্রবেশের নিন্দা ৮ মুসলিম ও আরব দেশের

১১

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

১২

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন, কখন নিশ্চিত না

১৩

ইরাকের এরবিল বিমানবন্দর এলাকায় বিস্ফোরণ

১৪

ম্যাজিক চুলায় রান্না করতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

১৫

ওটামেন্ডির পর অবসরের ইঙ্গিত দিলেন পারেদেস

১৬

কবে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট, জানালেন ট্রাম্প

১৭

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ‘গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার’ আহ্বান মির্জা ফখরুলের

১৮

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে দিনাজপুরে রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের ঢল

১৯

সিকৃবির কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ছাত্র সমিতির নতুন কমিটি 

২০
X