৩৪ ঘণ্টা পর গ্যাস সরবরাহ ফিরেছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায়। তবে স্বাভাবিক নয়, চাপহীন সামান্য পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা কোনো রকম রান্না হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকেলের মধ্যে পুরোদমে ফিরবে গ্যাস।
এদিকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস না আসায় বিকল্প হিসেবে অনেক গ্রাহককে পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ। অনেকের বাড়িতে হয়নি রান্না, ছুটেছেন হোটেল, রেস্তোরাঁয়। সেখানেও একই পরিস্থিতি। গ্যাস না থাকায় রান্না সাড়তে হয়েছে লাকড়ি কিংবা কারেন্টের চুলায়।
অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে সিএনজি স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন একদল অটোরিকশা চালক। এ সময় তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলেও পুলিশ এসে সরিয়ে দেয়।
শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে নগরীর কতোয়ালি থানার আটমার্সিং মোড়ে একটি সিএনজি স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্টেশনটির সামনে থেকে সিআরবি ও অপরপাশে টাইগারপাস সড়ক ধরে কয়েকশ অটোরিকশা গ্যাসের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। সকাল ১১টার দিকে চালকরা একযোগে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। কয়েকজন স্টেশনের কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকজন চালক স্লোগান দিতে দিতে স্টেশনের সামনে সিআরবি অভিমুখী সড়কে জড়ো হন। এতে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর পুলিশ গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।
সবুজ নামে বিক্ষুব্ধ এক অটোরিকশা চালক বলেন- মালিক বলেছে, আজ গ্যাস পাব। সকাল ৬টায় স্টেশনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছি। ৬টার আগে আধাঘণ্টা ধরে গ্যাস দিয়েছে। ৬টার পর থেকে আর দিচ্ছে না। এ জন্য আমরা বিক্ষোভ করছি। একবার গ্যাস দেওয়া শুরু করে আবার বন্ধ করল কেন?
জামাল চৌধুরী নামে আরেক চালক বলেন, গতকাল (শুক্রবার) সারাদিন গাড়ি চালাতে পারিনি। আজকেও পারছি না। আমাদের বউ, ছেলেমেয়ে আছে। দুদিন ইনকাম বন্ধ। তাদের খাওয়াব কী, আর নিজে খাব কী? গ্যাস পাব ভেবে মালিকের কাছে থেকে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। মালিকের খরচ কোত্থেকে দেব?
সিএনজি স্টেশনটির এক কর্মকর্তা বলেন, রাতে চাপ কিছুটা ছিল। তখন কিছু গাড়িতে গ্যাস দেওয়া গেছে। সকাল থেকে চাপ একেবারে কম, গ্যাস নেই বললেই চলে।
কোতোয়ালি ওসি এস এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য কয়েকজন চালক একটু বিক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। আমাদের মোবাইল টিম গিয়ে তাদের শান্ত করেন।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) অতনু চক্রবর্তী বলেন, এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। গ্যাসের চাপ তৈরি হলে সব গাড়িতে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে বলে ওনাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টা থেকে পাইপলাইনে এলএনজি টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু চাপ অস্বাভাবিক কম। যেখানে ইদানীং নিয়মিত ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়, সেখানে শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
কেজিডিসিএল’র বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (দক্ষিণ) প্রকৌশলী অনুপম দত্ত বলেন, গ্যাসের সরবরাহ শুরু হয়েছে। বিকেলের মধ্যে আশা করি ভালোভাবেই গ্যাস পাবেন গ্রাহকরা।
জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি এলএনজি টার্মিনাল সচল থাকলে সেখান থেকে নিয়মিত ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। গত অক্টোবরে একটি টার্মিনাল নিয়মিত সংস্কার কাজের জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এরপর একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে।
মন্তব্য করুন