ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ-গোলাগুলি এবং ভোটারদের বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচন। শনিবার (৯ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে একটানা ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
সকালে শহরতলীর নেউরা মুন্সী এম আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়। এ ছাড়াও কুমিল্লা হাইস্কুল, হারুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, মালেকা-মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিটি কলেজ কেন্দ্রেসহ অন্তত এক ডজন কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বেশকিছু কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত মাস্ক পরা যুবকরা কৌশলে ভোটারদের ফিরিয়ে দেয়। বাধা দেওয়া হয় নানা স্থানে।
সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা আহসান জানান, কেন্দ্রের কাছে আসতেই মাস্ক পরা একদল যুবক ঘিরে ধরে আমাকে নানা প্রশ্ন করতে থাকে। ভয় দেখায়। কেন্দ্রে কেন আসছি, কোথায় যাচ্ছি ইত্যাদি। পরে ভোট না দিয়েই ফিরে আসি।
এ দিকে হারুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাটপাড়া নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে বেশ নতুন ভোটারকে ভোট না দিয়েই ফিরে যেতে দেখা যায়।
৬নং ওয়ার্ডের পূর্ব চাঁনপুর হারুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা নতুন ভোটার জাহিদ জানান, জীবনে প্রথম ভোট দিতে এসেছি। ইভিএম মেশিনে আঙ্গুলের ছাপ না আসায় ভোট না দিয়ে ফিরে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার জাকির জানান, নতুন ভোটার হওয়ায় হয়তো ভোটার তালিকা ইভিএমে এন্ট্রি হয়নি।
ভোট গ্রহণের শুরু থেকেই ভোটার উপস্থিতির হার ছিল কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতির হার কিছুটা বাড়লেও দুপুর বারোটায় অনেক কেন্দ্রে ভোটার শূন্য হয়ে পড়ে। অনেক কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের খোশগল্প করে সময় কাটাতে দেখা যায়।
দুপুর ১২টায় ছোটরা এলাকার মালেকা-মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রটি প্রায় ভোটার শূন্য। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার প্রভাষক মো. জাকির হোসেন জানান, মহিলাদের জন্য নির্ধারিত এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৯০৪ জন। ৮টি বুথে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৬৭১টি। ভোটার শূন্য হয়ে পড়ার বিষয়ে এ প্রিসাইডিং অফিসার বলেন, দুপুরে মহিলাদের রান্না-বান্নার বিষয় থাকে। তাই হয়তো এখন ভোটার নেই। সকাল থেকে লম্বা লাইন না হলেও ছোট ছোট লাইনে মহিলারা ভোট দিয়ে গেছেন।
এ দিকে উপনির্বাচনে কুমিল্লা শহরতলীর নেউরা মুন্সী এম আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আবু সুফিয়ান অন্তুকে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে তাহসীন বাহার এবং নিজাম উদ্দিন কায়সারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়। এ ঘটনায় কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী আবু সুফিয়ান অন্তুকে রাজাপাড়ায় তার বাসার সামনে থেকে আটক করে পুলিশ।
আটক হওয়া অন্তুর মায়ের দাবি করেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তার ছেলে জড়িত নয়। অন্তু সে সময় বাড়িতে অবস্থান করছিল।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, এখানে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় ২ জন আহত হয়েছে। ঘটনার পরই আমরা সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছি।
তিনি আরও বলেন, আহতরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে শনাক্তের চেষ্টা করছি।
এ দিকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নতুন ভোটার হিসেবে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত তিন্নি। আরও ৩ বান্ধবী সুবর্ণা, খাদিজা ও সাদিয়াকে নিয়ে সকাল পৌনে ১০টায় কুমিল্লা হাইস্কুল কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে ভোট দেন তারা।
৬নং ওয়ার্ডের পূর্ব চাঁনপুর হারুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোয়া ১০টায় ভোট দেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রাকিব হোসেন। ভোট দেওয়ার পর হাতে ভর দিয়ে কেন্দ্র থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত।
মন্তব্য করুন