সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৪, ০৩:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মাকে হত্যার ঘটনায় ছেলের মৃত্যুদণ্ড

ডিবির কাছে আটককৃত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নাহিদ ইমরান নিয়ন। ছবি : কালবেলা
ডিবির কাছে আটককৃত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নাহিদ ইমরান নিয়ন। ছবি : কালবেলা

ঘুমন্ত অবস্থায় মাকে জবাই করে হত্যার দায়ে ছেলে নাহিদ ইমরান নিয়নকে (৩৯) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা আসামির উপস্থিততে এ আদেশ দেন। নাহিদ ইমরান নিয়ন সদর উপজেলার খোর্দ্দ শিয়ালকোল গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হকের ছেলে।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জেবুন্নেসা ওরফে জেবা রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলা ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মুজিব সড়কের কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পাশে নিজ বাসা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হকের স্ত্রী সাবেক স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা রশিদা খানমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে নাছিম ইমরান নিশাত বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে, তিনি উল্লেখ করেন ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তার বড় ভাই নাহিদ ইমরান নিয়নকে চাদর গায়ে দিয়ে বাড়ির বাইরে বের হয়ে যেতে দেখেন ভাবি পিংকি খাতুন। পরে পিংকি খাতুন এসে শাশুড়ি রশিদা খানমকে কয়েকবার ডেকে সাড়া না পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখেন তার গলাকাটা মরদেহ। পরে পুলিশ এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

মামলায় বাদী আরও উল্লেখ করেন, তিনি পরস্পর জানতে পারেন তার বড় ভাই নিয়ন জুয়া খেলায় জড়িত হয়ে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ কারণে তিনি তার মাকে হত্যা করতে পারে।

এ ঘটনায় পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে নাহিদ ইমরান নিয়ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) জুয়ায় আসক্ত হয়ে অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঋণের কারণে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তার মা রশিদা খানমের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় মা-ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। একপর্যায়ে নিয়ন মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় মাকে গরু জবাই করা ছুরি দিয়ে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর কম্বল দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামির উপস্থিতিতে আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পূর্বাচলকে ঢাকায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত, নিকার সভায় অনুমোদন

সংগীতাঙ্গন মাতানো মুগ্ধ এখন ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’ হওয়ার অপেক্ষায়

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ

বিশ্বকাপের আয়োজক দেশে নৌকা ডুবি, ৬ জনের মৃত্যুর শঙ্কা

পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

সিলেটে হামে এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৭৪

সীমান্তে পিলারের পাশে পড়ে ছিল নারীর মরদেহ

বাবার সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল কুশল, পথে বাসচাপায় প্রাণ গেল

বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: ১১ বছর পর প্রধান আসামির যাবজ্জীবন

ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের এক বছরে আয় শত কোটি ডলার

১০

‘ব্যাংক হলিডে’ আজ, বন্ধ লেনদেন

১১

মিলে গেল ম্যারাডোনার ৮ বছর পুরোনো সেই ভবিষ্যদ্বাণী

১২

ইসরায়েলকে সহায়তা কমানোর প্রস্তাবে বিভক্ত মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা

১৩

ব্রাজিলের ম্যাচে সিগারেট খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির নেতা আহত

১৪

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ডাকাত বাচ্চু সরদার

১৫

এক স্কুলের ৪ ছাত্রী নিখোঁজ

১৬

বাড়ছে পুলিশের উপস্থিতি  / পূর্বাচলে ৪ থানা ও ৬ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত

১৭

নবম পে-স্কেল কার্যকর / সরকারি চাকরিতে ১১-২০তম গ্রেডে বাড়ছে ১৩৫ শতাংশ বেতন

১৮

জুলাই থেকে ফেরা, তবে ঘরে ফেরা নয়!

১৯

জুলাই আন্দোলনের দুই বছর / কোটা সংস্কারের দাবি থেকে ইতিহাস বদলের যাত্রা

২০
X