

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় আলোচিত ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার তিন আসামি। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথকভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন গ্রেপ্তার আসামি সোহাগ খান (২৮), রাব্বি মোল্লা (২৪) ও পলাশ সরদার (২৫)।
আদালত সূত্র জানায়, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তারের কাছে রাব্বি মোল্লা, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী শীলের কাছে সোহাগ খান এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকলিমা আক্তারের কাছে পলাশ সরদার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে রাতেই তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহত খোকন চন্দ্র দাস (৫০) ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি কেউরভাঙা বাজারে ওষুধের ব্যবসা ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় খোকন চন্দ্র দাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এরপর তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শনিবার রাতেই তিলই গ্রামে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
ঘটনার পর শনিবার রাত ১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর এলাকায় র্যাব-৮ (বরিশাল) ও র্যাব-১৪ (কিশোরগঞ্জ)-এর যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রোববার রাতে তাঁদের ডামুড্যা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডামুড্যা থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক কালবেলাকে বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ঘটনার দিন আসামিরা খোকন দাসকে অনুসরণ করছিলেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সঙ্গে পেট্রোল নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, রাতে খোকন দাস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে প্রধান সড়ক থেকে তিলই গ্রামের পথে হাঁটার সময় তার গতিরোধ করা হয়। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়, পরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খোকন দাসের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তারা দাবি করেছে, টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলেও কোনো টাকা নিতে পারেনি।
মন্তব্য করুন