ঈদুল ফিতর আর পহেলা বৈশাখ মিলিয়ে টানা ছুটি তৈরি করেছে অন্যরকম আমেজ। টানা ছুটিতে ঈদ-বৈশাখ উদযাপনে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রামের সবকটি বিনোদনকেন্দ্র। চলছে শেষ মুহূর্তের পরিষ্কারের কাজ। রঙ করা হচ্ছে বিভিন্ন রাইড। দর্শনার্থী টানতে বিনোদন স্পটগুলো সেজেছে বর্ণিল সাজে। এবারের ঈদ আর বৈশাখের আনন্দ যেন দ্বিগুণ। দুটি উৎসবই পাশাপাশি।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এবার ঈদে সবচেয়ে বেশি ভিড় হবে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায়। সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল দেখতে ভিড় জমাবেন দর্শনার্থীরা। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশাসন থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জানা গেছে, দর্শনার্থীদের ঈদ আনন্দে মেতে ওঠার জন্য প্রস্তুত চট্টগ্রামের ডিসি পার্ক, চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক, কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত নেভাল, বহদ্দারহাট স্বাধীনতা পার্ক, আগ্রাবাদ শিশুপার্ক, আগ্রাবাদ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর, হালিশহর সাগরপার।
এ ছাড়া নগরীর বাইরে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, চন্দ্রনাথ পাহাড়, মিরসরাইয়ে মহামায়া লেক, আনোয়ারায় পারকি সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে যাবেন পর্যটকরা।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঈদে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের বরণে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকে চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে। আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন রাইড সাজানো হচ্ছে। পরিষ্কারের কাজও শেষের দিকে।’
তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ঈদের চার-পাঁচ দিনে প্রায় ৭০-৮০ হাজার দর্শনার্থী আসার সম্ভাবনা আছে। চিড়িয়াখানায় এখন শিশুদের জন্য ফ্রি রাইডও আছে।’
চিড়িয়াখানার পাশেই নগরীর কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি-ওয়ার্ল্ড সেজেছে নতুন সাজে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সেখানেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
ফয়’স লেকের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘পর্যটক বরণে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। যে রাইডগুলো নষ্ট ছিল সেগুলোর সংস্কার করে সব রাইডের সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। পার্কটাকে আরও আধুনিক করেছি। লেকে ভ্রমণের জন্য নতুন ইঞ্জিনবোট যুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা রিসোর্ট-বাংলো মেরামত করেছি। ঈদের দিন দুপুর থেকে পার্ক খোলা থাকবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আশা করছি ঈদের সাত দিনে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার পর্যটক আসবেন।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘পর্যটনের স্থানগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কুইক রেসপন্স টিম, টহল পুলিশ থাকবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ভিড় হবে পতেঙ্গায়, সেখানে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। হেল্প ডেস্কসহ রেসপন্স টিম থাকবে, যাতে করে পর্যটকরা কোনো অভিযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’
মন্তব্য করুন