বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
তন্ময় উদ্দৌলা, ফরিদপুর
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফরিদপুরে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ইয়াসিনের আর্তনাদ বাবা বাবা মা...

সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশু ইয়াসিন। ছবি : কালবেলা
সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশু ইয়াসিন। ছবি : কালবেলা

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশু ইয়াসিন জানে না মা বাবা তাকে ছেড়েই চলে গেছে বহুদূরে। সে জানে না আর কোনো দিন ফিরবেন না তার বাবা মা। মা বাবার মৃত্যুর পরে নানির কোল ছাড়া আর কারও কোলে যাচ্ছে না সে। প্রচণ্ড ভীতসন্ত্রস্ত শিশু ইয়াসিন মানুষ দেখলেই প্রচণ্ড কান্না করছে। আর বাবা বাবা মা বলে ডাকছে।

মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর ঢাকা খুলনা মহাসড়কে কানাইপুরের দিপনগর এ্যাবলুম ক্যাফেটেরিয়ার সামনে বাস-পিকআপ সংঘর্ষের সময় অল্পের জন্য বেঁচে যায় শিশু ইয়াসিন শেখ (১৮ মাস)।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) ইয়াসিনের নানাবাড়ি আলফাডাঙ্গার হিদাডাঙ্গা গ্রামে গেলে ইয়াসিনকে তার নানির কোলে দেখা যায়। পাশে ছিল তার নানা। শিশুটির কান্নায় যেন দেখতে আসা স্বজনদেরও চোখের পানি ঠেকানো যাচ্ছে না। একমাত্র আদরের মেয়ে ও জামাইকে হারিয়ে ইয়াসিনের নানা নান্নু আলীও ভেঙে পড়েছে। কারও সাথে কোনো কথা বলছে না।

স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় পিকআপে বাবা মায়ের সাথে ইয়াসিনও ছিল। ঢাকা থেকে মাগুরাগামী ইউনিক বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তাৎক্ষণিক ইয়াসিনের বাবা ইকবাল তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় পাশের ঝোঁপ ঝাড়ে, এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। শিশুটি মাথার ডান পাশে সামান্য চোট পেয়েছে বলে জানা যায়; তবে সে শঙ্কামুক্ত।

ঘটনাস্থলে নিহত হয় ১১ জন, হাসপাতালে মারা যায় আরও দুজন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যায় শিশু ইয়াসিনের বাবা ইকবাল শেখ (৩২)। বুধবার রাত ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তার মা পপি পারভীন (২৪)। জোহর নামাজের পরে পপিকে তার বাবার বাড়ি হিদাডাঙ্গা গ্রামে দাফন করা হয়েছে এবং ইকবালকে গতকাল মাগরিবের নামাজের পরেই বোয়ালমারী উপজেলার রুপপাত ইউনিয়নের কুমড়াইল গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পিকআপ ভ্যানে মোট যাত্রী ছিল ১৮ জন। তাদের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শিশু ইয়াসিন ছাড়া আরও দু’জন জীবিত আছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তারা ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান ৬২ হাজার ৫শ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়াও গতকাল জেলা প্রশাসন থেকে নিহত প্রত্যেককে ৫ লাখ এবং আহত প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিশুদের মতো উল্লাসে মেসি

ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে আবারও ফাইনালে আর্জেন্টিনা

বাড়ির সামনে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

হাফটাইমের আগে গোলের দেখা পেল না কেউ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা / সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জামায়াতে যোগ দেননি সাদিক কায়েম

এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা

পুকুরে গোসলে নেমে প্রাণ গেল ২ শিশুর

জুলাইয়ের অন্যতম শহীদ ওয়াসিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাবার চেয়ে ছেলের বয়স ‘বেশি’

১০

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে জখম

১১

যুবককে বাড়ি থেকে তুলে এনে মোবাইল ফেরত দিলেন ওসি

১২

রাষ্ট্রপতির বাণী / জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ 

১৩

মাঝ আকাশেই থেমে গেল রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফখরুলের জীবন 

১৪

নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা বাতিল

১৫

সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ, দুশ্চিন্তায় মার্কিন প্রশাসন-এফবিআই

১৬

শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা, অভিযোগের তীর আপন চাচির দিকে

১৭

বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো ঠাঁই হবে না: প্রধানমন্ত্রী

১৮

বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বাড়ে শিক্ষার্থীদের

১৯

সাজেক যেতে মানা নেই, রাঙামাটির সব পর্যটনকেন্দ্র উন্মুক্ত

২০
X