শিশির খাঁন, সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৪, ১০:০৩ পিএম
আপডেট : ০৩ মে ২০২৪, ১০:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মৎস্য খামারের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ফসলি জমির মাটি লুট

ভেকু মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। ছবি : কালবেলা
ভেকু মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। ছবি : কালবেলা

ফরিদপুরের সদরপুরের আকোটের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় পদ্মা মৎস্য খামারের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্তিতে ফেলে প্রকাশ্যে ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি কাটার জমজমাট ব্যবসা করছে একটি কুচক্রী মহল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভেকু দিয়ে মাটি কেটে প্রকাশ্যে দেদার বিক্রি করছেন প্রভাবশালী কুদ্দুছ কাজী। এই বিষয়ে অভিযুক্ত কুদ্দুছ কাজী বলছেন, আমি প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মাটি কাটছি, এখানে একটি মৎস্য খামার তৈরি করা হবে। কিন্তু প্রশাসন বলছে, এমন অনুমতি আমরা দেইনি।

জানা যায়, ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদারের সভাপতিত্বে গত মার্চ মাসে আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে জেলা প্রশাসক ঘোষণা দেন, ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে কোনো ফসলি জমি বিনষ্ট করে মাটির ব্যবসা করা যাবে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পিয়াজখালি-আকোটের চর সড়কের আকোটের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার পশ্চিম পাশের কাঁচা সড়কের পাশে নাম সর্বস্ব মৎস্য হ্যাচারির সাইনবোর্ড টানিয়ে ভেকু দিয়ে উর্বর মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে ভরা হচ্ছে। এসব মাটি বিক্রির জন্য ড্রাম ট্রাকের পাশাপাশি রাখা হয়েছে মাহেন্দ্র ট্রলিও। মাটিভর্তি এসব ভারী যানের ওভারলোডিংয়ে রাস্তাজুড়ে প্রায় ফুট পরিমাণ পাউডার মাটি জমে গেছে। গ্রামীণ রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে দেবে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ যাতায়াতে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এমনই অভিযোগ করেছেন কৃষক শাহ আলম শেখ, মিলন, আজিজুল, মালেক ও রুবেলসহ অনেকে। তারা বলেন, ভেকু দিয়ে ফসলি জমি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এলাকার ফসলি জমি শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি করার ফলে পাশের জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংকীর্ণ হয়ে আসছে সদরপুরের ফসলি জমি।

এ বিষয়ে কুদ্দুস কাজী বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতিতে মৎস্য প্রকল্পের মাধ্যমে আমি মাটি কাটছি।’

যে প্রকল্পের দোহাই দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ফসলি জমির মাটি লুট করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সেই দপ্তরের প্রধান সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম জাহাঙ্গীর কবির বলেন, পদ্মা মৎস্য প্রকল্পের নামে আমাদের দপ্তর থেকে কোনো প্রকল্পের অনুমতি প্রদান করা হয়নি। এটা সঠিক নয়।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মোরাদ আলী জানান, ফসলি জমি বিনষ্টকারীদের সদরপুর উপজেলা প্রশাসন মাটি কাটার অনুমতি প্রদান করেন, করতেও পারে না। যারা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ফসলি জমি বিনষ্ট করে মাটি কাটে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে সাত মাসে সাপের কামড়ের শিকার ৫৩৫ জন

ব্যাংক এশিয়ায় রিলেশনশিপ ম্যানেজার পদে আবেদন করুন আজই

তিন দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক আজ

ভারত সফরের পরিকল্পনা বাতিল করলেন ট্রাম্প : নিউইয়র্ক টাইমস

পুরুষদের জন্য রূপায়ণ গ্রুপে চাকরির সুযোগ

কিশোর-কিশোরীদের জন্য এআই চ্যাটবটে পরিবর্তন আনল মেটা

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন পরিকল্পনা ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের

রাজধানীতে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি

নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই : শামীম সাঈদী

ঢাকায় হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস

১০

রোববার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

১১

৩১ আগস্ট : আজকের নামাজের সময়সূচি

১২

পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দিলেন ৩ যুবক, অতঃপর...

১৩

নামাজ শেষে বসে থাকা গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

১৪

রাকসু নির্বাচনে সাইবার বুলিং রোধে ৫ সদস্যের কমিটি

১৫

১৮ মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

১৬

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায় শঙ্কা দূর হয়েছে : যুবদল নেতা আমিন

১৭

আহত নুরের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া

১৮

বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণে ৩১ দফার বিকল্প নেই : লায়ন ফারুক 

১৯

চবির নারী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

২০
X