বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪, ০১:৪৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

সরকারি গাছ কেটে মামলা খেলেন বিএনপি নেতা!

কেটে ফেলা গাছগুলো। ছবি : কালবেলা
কেটে ফেলা গাছগুলো। ছবি : কালবেলা

বগুড়ার গাবতলীতে সড়কের পাশের সরকারি ১০টি ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে বিএনপি নেতা আহম্মেদ সুমন ও তার চাচার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

রোববার (১২ মে) মধ্যরাতে গাবতলী মডেল থানায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অফিসের নায়েব আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ওই বিএনপি নেতা ও তার চাচার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে গত সোমবার (১৩ মে) পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আহম্মেদ সুমন গাবতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নেপালতলী ইউনিয়নের শাহাবাজপুর কালুডাঙ্গা গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে। তিনি দুর্বা গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকায় নিজের পরিচয় দিয়ে থাকেন। এরআগে শনিবার দুপুরে প্রায় শতাধিক লোকজন নিয়ে উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের শাহাবাজপুর কালুডাঙ্গা গ্রামে বুরুজ ভিটাপাড়া সড়কের ধারে ১০টি গাছ কেটে ফেলেন সুমন।

গ্রামবাসীরা বলছেন, দূর থেকে ওই নেতার হেলিপ্যাডসহ বিলাসবহুল বহুতল বাড়ির আলোকসজ্জা দেখা যায় না। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিয়ে সুমনের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছিল গাছগুলো। এজন্য দলবল নিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলেছেন তিনি। গাছ কাটতে বাধা দিতে গেলে গ্রামবাসীদের হেনস্তাও করা হয়।

গাবতলী পৌর এলাকা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটর দূরে শাহাবাজপুর কালুডাঙ্গা গ্রামে বুরুজ ভিটাপাড়া সড়ক। প্রায় ২০ বছর আগে ওই সড়কে নিজ বাড়ির সামনে স্কুল শিক্ষক আব্দুর রহমান প্রামানিক ১০টি ফলজ গাছ রোপণ করেছিলেন। বছর পাঁচেক আগে গাছগুলো রেখেই বিএনপি নেতা সুমনের বাড়ি পর্যন্ত পাকা সড়ক নির্মাণ করে দেয় এলজিইডি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালুডাঙ্গা গ্রামে বুরুজ ভিটাপাড়ায় আট ফিট পাকা সড়কের ধারে ১০টি ফলজ গাছ কেটে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে আম, বেল, চালতা ও জলপাই গাছ আছে। পাঁচটি গাছে অসংখ্য আম ধরেছিল।

স্কুল শিক্ষক আব্দুর রহমান জানান, গেলো বেশ কিছুদিন ধরেই গাছগুলো কেটে ফেলতে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলো সুমন। শনিবার দুপুরে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলে রেখে চলে যান তিনি।

আব্দুর রহমান বলেন, গাছগুলো আমি লাগিয়েছিলাম ঠিকই তবে গাছের ফল গ্রামের সবাই যার যার ইচ্ছে মতো নিয়ে যায়। সড়কের পাশে গাছ হওয়ায় সবাই সুবিধা পেতো।

জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আহম্মেদ সুমন বলেন, গ্রামের ওই সড়কটি আমার বাবা হারুনুর রশিদ মাস্টারের নামে করা। পরিচিতদের মাধ্যমে গ্রামের ওই সড়কটির বরাদ্দও আমি এনেছিলাম। সম্প্রতি আবারও সড়কটি সংস্কার ও প্রসস্ত করতে একটি বরাদ্দ এসেছে। তাই সড়ক সংস্কারের জন্য গ্রামবাসীরা গাছগুলো কেটেছেন। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমার ও চাচার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে শুনেছি। এখন আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।

গাবতলী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, গাছগুলো যেহেতু সড়কের ধারে ছিল তাই এর মালিকানাও সরকারের। এজন্য ইউএনও অফিসের নায়েব বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গাছগুলো সেখানে ইউপি সদস্যর জিম্মায় রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুপার কাপের মাদ্রিদ ডার্বি জিতে ফাইনালে রিয়াল

২ আসনে নির্বাচন স্থগিত যে কারণে

ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা পাঠাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট না : মির্জা ফখরুল

জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

শীত এলেই কদর বাড়ে ফুটপাতের পিঠার

অপারেশন থিয়েটারের ভেতর চুলা, রান্না করছেন নার্সরা

দুটি আসনে নির্বাচন স্থগিত

৯ জানুয়ারি : ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

গভীর রাতে দুর্ঘটনায় নেভী সদস্যসহ নিহত ৩

১০

বেকারত্বে জর্জরিত বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ

১১

আজ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা 

১২

ঘন কুয়াশায় এক্সপ্রেসওয়েতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে যাত্রী নিহত

১৩

কেরানীগঞ্জে শীতের পিঠামেলা

১৪

কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দিল ইরানিরা

১৫

আজ ঢাকার আবহাওয়া যেমন থাকবে

১৬

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৭

তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

১৮

ইতালিতে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে

১৯

সেনাবাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ, সিরিয়ায় কারফিউ জারি

২০
X