ইমরান ইসলাম, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪, ০৯:৪৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

নওগাঁর নিয়ামতপুরের একটি বাড়িতে ধানের গোলা। ছবি : কালবেলা
নওগাঁর নিয়ামতপুরের একটি বাড়িতে ধানের গোলা। ছবি : কালবেলা

‘গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ’। বাংলাদেশের গ্রাম নিয়ে প্রচলিত প্রবাদটি আজও মানুষের মুখে শোনা যায়। কিন্তু গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও দেখতে পাওয়া যায় না বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান ও গম সংরক্ষণের গ্রামীণ পদ্ধতি গোলা।

নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের এ ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। একসময় মেয়ে দিতেও ছেলেপক্ষের বাড়িতে ধানের গোলা আছে কিনা খবর নিতেন মেয়ে পক্ষের লোকজন, যা এখন শুধু রূপকথা গল্পের মতো।

আগে প্রতিটি কৃষকের বাড়িতে ধান রাখার জন্য গোলা ছিল। এখন যেন স্মৃতি হয়ে রয়েছে এসব গোলা। মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে নেই ধান মজুত করে রাখার বাঁশ-বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলাঘর।

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়ায় গ্রামের প্রতিটি পরিবারে ছিল মাটির তৈরি ধানের গোলা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর জন্য শুকনা খাবার মজুদ থাকত এসব গোলায়। রাজাকার আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী তা লুটপাট করে গ্রামের অনেক গোলাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।

জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির তৈরি করা ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। গোলার মাথায় থাকত টিনের বা খড়ের তৈরি পিরামিড আকৃতির মতো ছাউনি। গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ ফাটিয়ে ও কঞ্চি দিয়ে প্রথমে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বর্গ অথবা আয়তক্ষেত্র আকারে গোলা তৈরি করা হতো। এরপর তার গায়ের ভেতরে-বাইরে মাটির আস্তরণ লাগানো হতো। এর মধ্যে মুখ বা প্রবেশপথ রাখা হতো। যাতে করে প্রয়োজনে ধান রাখা বা বের করা যায়।

নিয়ামতপুর উপজেলার দেওয়ানপাড়ায় গ্রামের প্রয়াত আজিজুর রহমানের বাড়ির সামনে তাদের বংশীয় ধারার চিহ্ন এসব গোলা চোখে পড়ে সবার। মাটির তৈরি গোলাতে ধান ভালো থাকে। একটি গোলায় বছরের অধিক সময় পর্যন্ত ৫০০-৬০০ মণ ধান ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

দেওয়ানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, আমার নিজস্ব গোলা রয়েছে। এতে আমি অনায়াসে ৪৫০-৫০০ মণ ধান রাখতে পারি। যখন প্রয়োজন মনে করি সেখান থেকে ধান বিক্রি করি। এ ছাড়া মাটি থেকে গোলার মূল স্তম্ভ কিছুটা উঁচুতে থাকায় তাতে ইঁদুর ধান খেতে পারে না। এতে করে ধানটাও ভালো থাকে। একটি গোলা তৈরিতে সব মিলিয়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে।

নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বলেন, ধানের গোলা পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক বহনের পাশাপাশি কৃষকের চিন্তামুক্তির একটি বিষয় হতে পারে। কৃষক নিজে ধান মজুদ করতে না পেরে দাম কমের সময় সকল ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এরদোয়ানকে অস্ত্র না দিতে ট্রাম্পকে অনুরোধ নেতানিয়াহুর

সোনারগাঁও হোটেলে চাকরির সুযোগ, দ্রুত আবেদন করুন

রাঙামাটিতে টানা বৃষ্টি, বাঘাইছড়িতে নিহত ১

রাঙামাটিতে টানা বৃষ্টি, বাঘাইছড়িতে নিহত ১

ব্রাজিল, ফ্রান্স ও স্পেনকে নিয়ে মুখ খুললেন স্কালোনি

এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নিন্দা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল

নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ 

আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল ২০৩০ বিশ্বকাপ খেলবে বাছাইপর্ব ছাড়াই

মধ্যরাতে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ২৫ জবি শিক্ষার্থী

১০

নিয়োগ দেবে ভিভো

১১

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু সাড়ে ৩ হাজার ছাড়াল, আশ্রয়হীন ১৮ হাজার

১২

ফাইনালের আগে বদলে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল; কিন্তু কেন?

১৩

কখন কোথায় হবে কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা

১৪

কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হলো যাদের, অপেক্ষায় কারা

১৫

দুমকীতে ৭১ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

১৬

মোবাইলে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ দেখবেন যেভাবে

১৭

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে চুক্তিতে আনতে চীনকে টানছে নরওয়ে

১৮

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্মার্ট প্রশাসন গড়তে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস

১৯

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল মা-ছেলের

২০
X