বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
ইমরান ইসলাম, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪, ০৯:৪৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

নওগাঁর নিয়ামতপুরের একটি বাড়িতে ধানের গোলা। ছবি : কালবেলা
নওগাঁর নিয়ামতপুরের একটি বাড়িতে ধানের গোলা। ছবি : কালবেলা

‘গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ’। বাংলাদেশের গ্রাম নিয়ে প্রচলিত প্রবাদটি আজও মানুষের মুখে শোনা যায়। কিন্তু গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও দেখতে পাওয়া যায় না বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান ও গম সংরক্ষণের গ্রামীণ পদ্ধতি গোলা।

নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের এ ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। একসময় মেয়ে দিতেও ছেলেপক্ষের বাড়িতে ধানের গোলা আছে কিনা খবর নিতেন মেয়ে পক্ষের লোকজন, যা এখন শুধু রূপকথা গল্পের মতো।

আগে প্রতিটি কৃষকের বাড়িতে ধান রাখার জন্য গোলা ছিল। এখন যেন স্মৃতি হয়ে রয়েছে এসব গোলা। মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে নেই ধান মজুত করে রাখার বাঁশ-বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলাঘর।

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়ায় গ্রামের প্রতিটি পরিবারে ছিল মাটির তৈরি ধানের গোলা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর জন্য শুকনা খাবার মজুদ থাকত এসব গোলায়। রাজাকার আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী তা লুটপাট করে গ্রামের অনেক গোলাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।

জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির তৈরি করা ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। গোলার মাথায় থাকত টিনের বা খড়ের তৈরি পিরামিড আকৃতির মতো ছাউনি। গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ ফাটিয়ে ও কঞ্চি দিয়ে প্রথমে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বর্গ অথবা আয়তক্ষেত্র আকারে গোলা তৈরি করা হতো। এরপর তার গায়ের ভেতরে-বাইরে মাটির আস্তরণ লাগানো হতো। এর মধ্যে মুখ বা প্রবেশপথ রাখা হতো। যাতে করে প্রয়োজনে ধান রাখা বা বের করা যায়।

নিয়ামতপুর উপজেলার দেওয়ানপাড়ায় গ্রামের প্রয়াত আজিজুর রহমানের বাড়ির সামনে তাদের বংশীয় ধারার চিহ্ন এসব গোলা চোখে পড়ে সবার। মাটির তৈরি গোলাতে ধান ভালো থাকে। একটি গোলায় বছরের অধিক সময় পর্যন্ত ৫০০-৬০০ মণ ধান ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

দেওয়ানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, আমার নিজস্ব গোলা রয়েছে। এতে আমি অনায়াসে ৪৫০-৫০০ মণ ধান রাখতে পারি। যখন প্রয়োজন মনে করি সেখান থেকে ধান বিক্রি করি। এ ছাড়া মাটি থেকে গোলার মূল স্তম্ভ কিছুটা উঁচুতে থাকায় তাতে ইঁদুর ধান খেতে পারে না। এতে করে ধানটাও ভালো থাকে। একটি গোলা তৈরিতে সব মিলিয়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে।

নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বলেন, ধানের গোলা পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক বহনের পাশাপাশি কৃষকের চিন্তামুক্তির একটি বিষয় হতে পারে। কৃষক নিজে ধান মজুদ করতে না পেরে দাম কমের সময় সকল ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩য় দফায় পেছাল শিশু আসমা ধর্ষণ-হত্যার রায়

ছয় আর্জেন্টাইনের মধ্যে রইল বাকি চার

শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সবুজায়নের অঙ্গীকারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

পেলের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় হ্যারি কেইন

ধর্ষণের ১৪ বছর পর রায়, দুই যুবকের ফাঁসির আদেশ

বিএসইসি’র প্রধান কার্যালয়ে শিল্প সচিবের সৌজন্য ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপি নেতা নিহত

সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের ফল উৎসব

৩৩টি বিয়ে নিবন্ধনে স্বাক্ষরে অনিয়ম, কাজীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

১০

প্রতারণা মামলায় এসএমপির সহকারী কমিশনার কারাগারে

১১

শাসরুদ্ধকর ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়

১২

শিবির নেতা হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

১৩

আসছে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

১৪

পুলিশকে ‘ইট দিয়ে আঘাত করে’ আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ

১৫

ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চাইলেন ব্যবসায়ীরা

১৬

'ভয়ে’ পেনাল্টি নিতে রাজি হননি জার্মানির ৪ ফুটবলার

১৭

টানলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

১৮

শেখ হা‌সিনাকে ফেরানোর অগ্রগ‌তি নিয়ে যে তথ্য জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

১৯

পরশুরামে মানসিক ভারসাম্যহীন বাংলাদেশিকে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ

২০
X