কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৪ পিএম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘যারা অবৈধভাবে বিদেশে সেকেন্ড হোম গড়েছেন, তারা দেশকে ভালোবাসেন না’

গ্রাফিক্স : কালবেলা
গ্রাফিক্স : কালবেলা

বিদেশে যারা অবৈধভাবে সেকেন্ড হোম গড়েছেন, তারা আসলে দেশকে ভালোবাসেন না। প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং আমাদের মুক্তির চেতনা নিয়ে অর্থপাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে।

রোববার (৮ অক্টোবর) পিকে হালদারের রায়ের পর্যবেক্ষণে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার তার মা, আপন ভাইসহ ঘনিষ্ঠজনের সহযোগিতায় অসংখ্য নামি-বেনামি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে পাহাড়সম অবৈধ সম্পদ অর্জন করে। একজন মেধাবী নাগরিক তার মেধাকে কাজে লাগিয়ে জাতি গঠনের যেরূপ ভূমিকা রাখতে পারে, ঠিক অপরদিকে অপরাধ চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়লে তখন সে জাতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মানুষ ব্যক্তি স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে যায়। আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারের নিকট দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থ অনেক বড় ছিল। আমরা যেন নিজের সামান্য ব্যক্তি স্বার্থের জন্য মানিলন্ডারদের সহযোগী না হই।

বিচারক পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, বিদেশে যারা অবৈধভাবে সেকেন্ড হোম গড়েছেন, তারা আসলে দেশকে ভালোবাসেন না। প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং আমাদের মুক্তির চেতনা নিয়ে অর্থপাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। আসলে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদারের মতো অর্থ পাচারকারীদের কোনো আদর্শ নেই। তারা কোনো আদর্শ লালন করে না। তবে তারা অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা দেশ ও জাতির শত্রু। জাতীয় স্বার্থ ও দেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে তাদের সমবেতভাবে প্রতিহত করতে হবে। ফলস্বরূপ, অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদার রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কোনো প্রকার ছাড় পাওয়ার যোগ্য নন। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এখনও মুলতবি রয়েছে যদিও এটি অনেক আগেই কানাডায় পাঠানো হয়েছিল। উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র একা অর্থপাচার প্রতিরোধ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা এবং আমাদের দেশের নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের দেশে অর্থপাচারের অপরাধ প্রতিহত করা যেতে পারে।

এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় পিকে হালদারের ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অপর ১৩ আসামির পৃথক দুটি ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে তাদের চার বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন- পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, পি কে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধা, শঙ্খ বেপারি, সুকুমার মৃধা, পূর্ণিমা রানী হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অমিতাভ অধিকারী, প্রিতিশ কুমার হালদার, রাজীব সোম, সুব্রত দাস, অনঙ্গ মোহন রায় ও স্বপন কুমার মিস্ত্রি।

এদিন কারাগারে আটক পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়াল, অনিন্দিতা মৃধা, শঙ্খ বেপারি ও সুকুমার মৃধাকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে পিকে হালদারসহ ১০ আসামি পলাতক থাকায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তারা হলো- লীলাবতী, পূর্ণিমা রান, উত্তম কুমার, অমিতাভ, প্রিতিশ, রাজীব, সুব্রত, অনঙ্গ ও স্বপন।

২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। মামলার এজাহারে বলা হয়, পিকে হালদার বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ নিজ দখলে রেখেছেন। এ ছাড়া ওই অর্থ আড়াল করতে বিদেশে পাচার করে মানি লন্ডারিং আইনেও অপরাধ করেন তিনি। মামলাটি তদন্ত শেষে ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন। ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালীন এ মামলায় ১০৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এরপর গত ৪ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ছে সরকার: আইসিটিমন্ত্রী

কারা জিতবে বিশ্বকাপ, শেষ ষোলোর পর জানাল সুপার কম্পিউটার

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ যাত্রী আটক

ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ৯ নেতা

বরিশালের বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির রাজনীতির একমাত্র উৎস জনগণ: তারেক রহমান

বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন দায়ী: রিজভী

ফরিদপুরে স্ত্রীকে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

ইংল্যান্ড ম্যাচে জার্সি বদলাতে চাইছে আর্জেন্টিনা, কিন্তু কেন?

ইসলামাবাদ সমঝোতা শেষ, সব মার্কিন ঘাঁটিই এখন লক্ষ্যবস্তু: ইরান

১০

৪ জেলার মানুষের ভোগান্তির সেই সড়কে উন্নয়ন কাজ শুরু

১১

বন্যার পানিতে যে ১০ ভুল কখনো করবেন না

১২

৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কুমিল্লা নগরী

১৩

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নতুন কমিটি

১৪

যুবদল নেতা রুবেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা

১৫

‘ইনকিলাব কালচারাল ট্রাস্ট’ গঠনে চার দফা প্রস্তাব শহীদ ওসমান হাদি ফাউন্ডেশনের

১৬

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি

১৭

ঢাবিতে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

১৮

ঢাবির দুই ছাত্রী হলের জলাবদ্ধতা নিরসন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭ সদস্যের কমিটি গঠন

১৯

স্বাধীনতার ৫৭ বছরেও পাকা হয়নি ভরিপাশা-তালতলী সড়ক

২০
X