সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সালের দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টা ২০ মিনিট থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের মিলনায়তনে স্থাপিত ৫০টি বুথে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুদিনব্যাপী এ ভোট শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। একইভাবে আগামীকালও ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে সাত হাজার ৮৮৩ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। এর আগে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির প্রধান আবুল খায়ের কালবেলাকে বলেছেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। আশা করছি আজ সকাল ১০টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব সময় ভোটের শুরুতে একটা আশঙ্কা থাকে। এ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আশঙ্কা আছে, থাকবে। তবে এটা থেকে বের হওয়ার জন্য আমরা সচেষ্ট রয়েছি। সুষ্ঠু ভোটের জন্য কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়। এবার বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে সভাপতি পদে আবু সাঈদ সাগর ও সম্পাদক পদে শাহ মঞ্জুরুল হকসহ ১৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি সমর্থক প্যানেল থেকে সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক পদে মো. রুহুল কুদ্দুসসহ ১৪ প্রার্থী লড়ছেন।
এই দুই প্যানেলের বাইরেও সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান সভাপতি পদে এবং যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ নাহিদ সুলতানা যূথী সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপি সমর্থক আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল জানিয়েছেন, গত নির্বাচনে যারা বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছেন, বর্তমান কমিটিতেও তারা রয়েছেন। এজন্য প্রার্থীরা অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের আচরণগত কারণে আমাদের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো সুষ্ঠু ভোটে আশাবাদী।
জানা যায়, ২০২৩ সালে নির্বাচন পরিচালনা সাব-কমিটি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। পরে ভোটে আওয়ামী লীগ সমর্থক ১৪ প্রার্থীই বিজয়ী হন। এর আগে ২০২২ সালেও ভোটগণনা শেষে ফল ঘোষণার মুহূর্তে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। এ নিয়ে হট্টগোলের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক এ ওয়াই মসিউজ্জামান পদত্যাগ করেন। ফল ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। এরপর নানা নাটকীয়তা হয়। এরই মধ্যে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে গত ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত ভোট হয়েছে।
মন্তব্য করুন