

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কোনো বাঙ্কারে লুকিয়ে নেই বলে দাবি করেছে ভারতস্থ ইরানি দূতাবাস। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল সাঈদ রেজা মোসায়েব মোতলাঘ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিশানা করতে পারে; এমন জল্পনার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনি কোনো বাঙ্কারে নেই। তিনি নিরাপদ আছেন এবং নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে মোতলাঘ অভিযোগ করেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় উসকানি দিয়েছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার হুমকি থাকা সত্ত্বেও ইরান ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, ইরান অভ্যন্তরীণ সংকটে রয়েছে; এমন একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে আমার বিশ্বাস, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ও শুক্রবার পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি যথেষ্ট আত্মসংযম ও নমনীয়তা দেখিয়েছে।
তার দাবি, ৮ জানুয়ারি থেকে বিদেশে অবস্থানরত নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে নির্দেশনা পেতে শুরু করে কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। এরপর তারা ষড়যন্ত্র ও নাশকতায় জড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন বড় ও ছোট শহরে সহিংসতা চালায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মোতলাঘ জানান, সহিংসতায় মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। আর বাকি ৬৯০ জন আন্দোলনে ইন্ধনদাতা সন্ত্রাসী।
তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভে বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছিল না বা থাকলেও তা খুবই সীমিত। তবে ইরান সরকারের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, অনেক বিক্ষোভকারীকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রশিক্ষণ দিয়েছে কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের প্রভাবে তারা প্রভাবিত হয়েছে।
এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা, বিশেষ করে বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মোতলাঘ বলেন, যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের দেশ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে, যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় দুই দিনের মধ্যেই এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে, যদি কোনো শক্তি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়, তবে আত্মরক্ষায় ইরান পূর্ণ শক্তিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
খামেনির জনসমক্ষে উপস্থিত না থাকা কিংবা বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা ভিডিও কনফারেন্সিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
মোতলাঘ বলেন, আমরা কোনো বিদেশি শক্তিকে ভয় পাই না। আয়াতুল্লাহ খামেনির নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তাকর্মী থাকা স্বাভাবিক; যেমনটি অন্য যে কোনো দেশেই হয়ে থাকে। তবে কেউ যেন মনে না করে, তিনি কোনো বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন।
মন্তব্য করুন