নোয়াখালীতে তিন মাসে ১০ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া তিন কিশোরী অপহরণ ও আত্মহত্যা করেছেন পাঁচ গৃহবধূ। এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা নারী অধিকার জোট।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় মাইজদী শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নারীর প্রতি সহিংসতার ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।
এতে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে জেলায় ১০ ধর্ষণ, তিন অপহরণ, পাঁচ আত্মহত্যা, এক শিশু বলৎকারের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ছুরিকাহত করা হয়েছে এক নারীকে, নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছে মা ও মেয়ে, স্বামীর সাথে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক নববধূ। অন্যদিকে এ সময়ের মধ্যে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুলালে ১৯০টি মামলা হয়েছে।
প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নারী অধিকার জোটের আহ্বায়ক লায়লা পারভীন। তিনি কালবেলাকে বলেন, আগের তুলনায় এ প্রান্তিকে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। এতে নাগরিক সমাজ শঙ্কিত। সংগঠিত সহিংসতার বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
লায়লা পারভীন আরও বলেন, কোম্পানীগঞ্জের গণধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বশীলদের অবহেলা আছে কিনা, পাঁচজন গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। ক্ষেত্রবিশেষে সহিংসতার শিকার ভিকটিমকে দোষারোপ করার অপচেষ্টাও চলে। যা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির আরেকটি বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব মনোয়ারা মিনু, সদস্য রওশন আক্তার লাকী, ফৌজিয়া নাজনীন, এনআরডিএস'র পরিচালক আবদুল আউয়াল, অ্যাডভোকেট গোলাম আকবর, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, আবু নাছের মঞ্জু, জামাল হোসেন বিষাদ, গাজী রুবেল প্রমুখ।
মন্তব্য করুন