ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘১৫ বছরে কথিত বুদ্ধিজীবীরা আত্মা বিক্রি করে দাসত্বকে মেনে নিয়েছে’

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত কবি ও লেখকদের গল্প’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ। ছবি : কালবেলা
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত কবি ও লেখকদের গল্প’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ। ছবি : কালবেলা

লেখক, সাংবাদিক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা টিকে ছিল। এ সময় রাষ্ট্রটি গঠন করা হয়েছিল সংবিধান, আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে।

তিনি বলেন, গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা এমন ছিল যে, ভয় দেখিয়ে করছে শাসন জয় দেখিয়ে নয়। এই ১৫ বছরে কথিত বুদ্ধিজীবীরা আত্মা বিক্রি করে দাসত্বকে মেনে নিয়েছে।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত কবি ও লেখকদের গল্প’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে একেকটি বিষয় পিলার হিসেবে কাজ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ব্যক্তির কথা বলে ইতিহাসের বিশেষ একটি ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের কথিত বুদ্ধিজীবীরা তাদের আত্মা বিক্রি করে দাসত্বকে মেনে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই দাসত্বকে নিজেদের অর্জন বলে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে তারা।

তিনি বলেন, এর আগে বাংলাদেশে তিন তিনবার গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল করতে বড় ভূমিকা পালন করেছিল শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও কবিরা। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের সময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট তৈরি হয়েছিল। সেখানে কবি-শিল্পী, সাহিত্যিকরা কবিতা পরিষদ করেছিলেন। কিন্তু এই প্রথম চব্বিশের আন্দোলনে তথাকথিত কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীরা শেষ মুহূর্তেও আন্দোলনে যুক্ত হননি। কারণ হিসেবে দাসত্বকেই দায়ী করা যায়।

আন্দোলনে আহত তরুণ লেখকদের নিয়ে এ প্রফেসর বলেন, তরুণরা আহত হয়েছে বলে আমি তাদের দেখতে আসিনি। আমি তাদের কথা শুনতে এসেছি। আমি তাদের বীর মনে করি এবং বীরদের কাছ থেকে শিখতে চাই। এই আদর্শিক হেজিমনির বিরুদ্ধে যে লড়াই-সংগ্রাম তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

আহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তার প্রতিবাদ করেছেন ড. আলী রীয়াজ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, যখন রাষ্ট্র শিল্পকে পোষণ করবে তখন তাদের প্রতিবাদী মনোভাবে কোথাও না কোথাও আপোষ তৈরি হবে। যদিও আমি রাষ্ট্রীয় সম্মানকে ছোট করে দেখছি না। তবে বুদ্ধিজীবীদের কাজ ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা। আর এগুলো করতে পারে স্বাধীন বুদ্ধিজীবীরা।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার কারণ হিসেবে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনসহ বিভিন্ন এজেন্সি ও মধ্যরাতের টেলিফোন দেওয়াকে দায়ী করেছেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো মালিকানা সূত্রে প্রকৃত গণমাধ্যম হয়ে ওঠেনি বলেও মন্তব্য করেন ড.আলী রীয়াজ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুশকি দূর করুন সহজ ঘরোয়া যত্নে

ঢাকার শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

রাইস কুকার না মাল্টি কুকার? কোনটা আপনার জন্য ভালো বুঝে নিন

বিএনপির আরও ৬ নেতাকে বহিষ্কার

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

গ্যাস ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন? হতে পারে ক্যানসারের মতো বড় সমস্যা

বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

২৮ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

এসিআই মোটরসে চাকরির সুযোগ

সাতক্ষীরায় ৬ যুবদল নেতা বহিষ্কার

১০

সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট চাইলেন লায়ন ফরিদ

১১

‘প্রমাণ ছাড়া যে কোনো ঘটনায় তারেক রহমানকে জড়ানো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির প্রতিফলন’

১২

মূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে এইচআইভি

১৩

উত্তরায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

১৪

ইসলামনগরে আগুন, জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৪

১৫

নাসীরুদ্দীনের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানালেন মির্জা আব্বাস

১৬

মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘শক্তির অপব্যবহার’ বলে আখ্যা ভারতীয় সাংবাদিকের

১৭

পৌনে ২ লাখ লোকের ইতিবাচক পরিবর্তন আনল ব্র্যাক ব্যাংক 

১৮

ডিমের আঁশটে গন্ধ দূর করার সহজ উপায়

১৯

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন

২০
X