ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১১ পিএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রাজাকারের ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ, লক্ষ্যভেদে মিলছে পুরস্কার

রাজাকার ঘৃণাস্তম্ভ। ছবি : সংগৃহীত
রাজাকার ঘৃণাস্তম্ভ। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজাকার ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি আয়োজন করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় জনতাও অংশ নেয়।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সামনে অবস্থিত ঘৃণাস্তম্ভে এ কর্মসূচি শুরু হয়। জুতা নিক্ষেপ করতে আসা লোকজন লক্ষ্যভেদ করলে তাদের পুরস্কার দিতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ঘৃণাস্তম্ভের পেছনের দেয়ালে বেশ কিছু ছবি লাগানো হয়েছে। এতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদের ছবি, চৌধুরী মঈনুদ্দীন, অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনাকারী খাদিম হোসেন রাজা, পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে গোলাম আজমের বৈঠকের ছবি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আটক রাজাকার বাহিনীর ছবি রয়েছে।

কর্মসূচির আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে আমরা আজ এ আয়োজন করেছি। পাকিস্তানি বাহিনী যে বর্বরতা করেছে, আমরা তা জাতির কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করি; যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুলে না যায় পাকিস্তানিদের সেই কালো ইতিহাস।’

এর আগে ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ’-এ তিনি লেখেন, ‘আলবদর, আলশামস, রাজাকার ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসরদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রদর্শন ও জুতা নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত ‘ঘৃণা স্তম্ভ’। সবাই আজ দুপুর ১২টায় ডাকসু ক্যাফেটারিয়ার বিপরীত পাশে ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপের জন্য চলে আসুন। জুতা নিক্ষেপ করলেই রয়েছে বিশেষ 'গিফট হ্যাম্পার'।’

জুতা নিক্ষেপের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ‘নিঃশব্দ ঘৃণা’ নামে একটি বোর্ড, যেখানে অনেকে ঘৃণাসূচক বিভিন্ন বাক্য লিখেছেন।

সেখানে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, ‘একাত্তরের রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘গণহত্যার সমর্থকরা কীভাবে রাজনীতি করে’, ‘রাজাকারের বাচ্চারা এ যুগের কুলাঙ্গার’, ‘রাজাকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ নিকৃষ্ট ইতর প্রাণী’।

জুতা নিক্ষেপ করতে আসা প্রবীণ সুফি হাশিম বলেন, ‘আমি চরম মাত্রায় ঘৃণা করি, যারা এ দেশের এই মূল্যবান সম্পদগুলোকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমি মনে করি না তারা মুসলমান; তারা পাখির মতো মানুষ মারছে।’

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে ছাত্র ইউনিয়নের কলা ভবন শাখার সভাপতি সাদিকুর রহমান ও তৎ কালীন উর্দু ও ফারসি বিভাগের ছাত্র আবু তৈয়ব হাবিলদার স্তম্ভটি নির্মাণ করেন। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের কয়েকজন সেক্টর কমান্ডার স্তম্ভটি উদ্বোধন করেন। ২০০৮ সালে স্তম্ভটি ভেঙে ফেলা হলে পরে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান আলোচনায় দেরি করেছে, এখন তাদের ‘মূল্য চুকাতে হবে’ : ট্রাম্প

নজর কাড়ছে ১২০০ হাত লম্বা আর্জেন্টিনার পতাকা 

৩০ বছর পর কবর থেকে তোলা হচ্ছে সালমান শাহ’র মরদেহ

কমলো হার্টের রিংয়ের দাম

জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী / সেমিফাইনালে ছিটকে পড়বে আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

কোন বয়সে মানুষ সবচেয়ে সুখী থাকে? জানাল গবেষণা

জার্মানির সাড়ে ৭ কিলোমিটার পতাকা বানালেন কৃষক

বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন বিক্ষোভে উত্তাল মেক্সিকো

একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করে স্বামী-স্ত্রী দুজনই কারাগারে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তুমুল সংঘর্ষ, নিহত ১

১০

 বিশ্বকাপের গান গাইলেন বিজয় মামুন

১১

মারা গেলেন নাট্যশিল্পী আবুল হাসনাত প্রদীপ

১২

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সবাই নিহত

১৩

দুর্বৃত্তদের হামলায় কৃষক দল নেতা খুন

১৪

বিরোধী দলের এলাকাও উন্নয়নের বাইরে থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

১৫

প্রিমিয়ারে টেইলর সুইফটের চমক,আলোচনায় 'টয় স্টোরি ৫'

১৬

ক্রিমিয়ায় ঐতিহাসিক জাদুঘরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

১৭

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে প্রাণ দিলেন রাবি শিক্ষার্থী

১৮

নিউইয়র্ক সিনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি হওয়ার দৌড়ে আবের কাওয়াস

১৯

র‍্যাঙ্কিংয়ে নাহিদ রানার বড় লাফ

২০
X