রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ৫ কোটি টাকায় নির্মিত ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রায় ৫ মাসও সুফল পাচ্ছেন নগরবাসী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। ব্যবহারিক হাতে-কলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা।
জনবল সংকট ও চিকিৎসার পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে হাসপাতালের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। হসপিটালটিতে বসেন না কোনো ভেটেরিনারিয়ান চিকিৎসক।
অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পাসে বেশিরভাগ শিক্ষক (ডাক্তার) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো না কোনো বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পশু ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তারা চান না হাসপাতালটির সেবা নির্বিঘ্ন হোক, জনপ্রিয় হোক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে উদ্বোধন করা হয় ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালটি। গেল আগস্ট মাসে হাসপাতালটি কার্যক্রম পরিচালনায় রুটিন করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেন ইনচার্জ অধ্যাপক ড. কে বি এম সাইফুল ইসলাম। দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার পরেও হাসপাতালটি চিকিৎসা দিতে বসেন না শিক্ষক (চিকিৎসক)। এদিকে ভবনটির ভেতরে চিকিৎসাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব নেই। নেই চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাব। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালে ৫ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করে একটি ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরজমিনে দেখা গেছে, তিনতলাবিশিষ্ট ভবনের কোনো রুমেই চিকিৎসার যন্ত্রপাতি বলতে গেলে নেই, চেয়ার-টেবিল বা অন্যান্য আসবাবও নেই। নিচতলায় গেটের সামনে চেয়ারের পাশে বসে আছেন শুধু গার্ড। হাসপাতালে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে কোনো স্যার (ডাক্তার) বসেন না। তারা সবাই শেখ কামাল ভবনে চেম্বার করেন। কেউ অসুস্থ পশুর সেবা নিতে আসলে আমি স্যারদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করিয়ে দিই। স্যারেরা তাদের শেখ কামাল ভবনে নিয়ে সেবা দেন।’
সংশ্লিষ্ট অনুষদের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা জানান, ২০১২ সাল থেকে অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ব্যাচ ব্যবহারিক শিক্ষা ছাড়াই স্নাতক সম্পূর্ণ করেছেন। শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ওই অনুষদের জন্য একটি পশু হাসপাতালের দাবি করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে বরাদ্দ হলেও অজানা কারণে এগোয় না কাজ। এক যুগের বেশি সময় পর স্থাপনা হলেও কোনো সরঞ্জাম সেখানে নেই। এভাবেই চলবে এই হাসপাতাল কখনো কর্মচঞ্চল হবে না। হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কে বি এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগের চিকিৎসাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে। বিভাগের যন্ত্রপাতি দিয়ে কোনোমতে কাজ চালাচ্ছি। নতুন যন্ত্রপাতি, আসবাব আর লোকবল পেলে হাসপাতাল পুরোদমে চালু হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কোনো ক্লিনিকে কাজ করা বাধা হবে না।’
মন্তব্য করুন