বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পার হতে চললেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে সবুজায়ন করতে পারেনি প্রশাসন। ফলে ছায়া প্রদানকারী গাছ শূন্য ক্যাম্পাসের প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
২০১৯ সালে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এবং অপরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে গাছ রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তিরা অনেক গাছ নিধন করেছেন। গাছ লাগানো নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় দ্রুত সবুজায়নের পরিকল্পনা নিয়ে ক্যাম্পাসে অধিক সংখ্যক গাছ লাগানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, যখনই শিক্ষার্থীরা গাছ লাগানো প্রতিবাদ করে, প্রশাসন থেকে বলা হয় গাছ লাগানোর সিদ্ধান্তে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরক্ষণেই আমরা দেখি দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ তখন পার্ক সাজানোর মতো করে কয়েক ধাপে গাঁদা ফুল লাগান। যা কয়েকদিন পরেই মারা যায়। এগুলো স্রেফ লোক দেখানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের অপচয়।
স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী তানজির হোসেন তনু কালবেলাকে জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার পর ক্যাম্পাসে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্তে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারা স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিয়ে কয়েকটি নকশা করান। কিন্তু প্রায় ২ বছর হয়ে গেলেও তারা নকশা অনুযায়ী একটি গাছও লাগাননি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ‘প্রশাসনের অদূরদর্শিতার কারণেই এত বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় সবুজায়ন হয়নি। শুরু থেকে ভালো পরিকল্পনা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় এতদিনে সবুজে ভরে উঠতো।’
গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজেন্দ্র চন্দ্র ভৌমিক কালবেলাকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশাসনসহ অনেকেই অনেক গাছ লাগিয়েছে। রাস্তা প্রশস্ত করার সময় অনেকগুলো গাছ কাটা হয়েছে। ক্যাম্পাসকে সবুজায়ন করতে হলে আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে। আর গাছ লাগানোর পর কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বছর নিয়মিত পানি ও সার দিয়ে গাছের যত্ন নিতে হবে। দুঃখের বিষয় সেটা কেউ করে না।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গাছ পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, গত ২ বছর প্রকল্পের কাজের জন্য কোনো বড় গাছ লাগানো হচ্ছে না। পরিকল্পিতভাবে সবুজায়নের জন্য ইতোমধ্যে উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের বালু মাটিতে শুধু গর্ত করে গাছ না লাগিয়ে এবার পরিকল্পনা করা হচ্ছে প্রথমে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি উপড়ে সেগুলোতে সার ও গোবর মিশিয়ে বৃষ্টি পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং বৃষ্টির মাঝ সময় থেকে গাছ লাগানো।
এ বিষয়ে এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার জহরুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনায় মাস্টারপ্ল্যান করে বর্ষার মৌসুমে সবুজায়নের লক্ষ্যে গাছ লাগানো হবে। যাতে পরবর্তীতে কোনো প্রকল্পের কাজ হলে আর গাছ কাটা না পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রকল্পের কাজ চলছে। জুনের ৩০ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান প্রজেক্টের কাজ বুঝে পাওয়ার পর আমরা মাস্টারপ্ল্যান করে গাছ লাগানো শুরু করবো। আমরা বৃষ্টির মৌসুমকে সামনে রেখে গাছ লাগানোর চিন্তা করছি।’
মন্তব্য করুন