

ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নানা রকম ফলের মধ্যে আঙুর অনেকেরই খুব পছন্দের। কেউ কাঁচা আঙুর খান, কেউ জুস বানিয়ে খান, আবার কেউ ডেজার্টেও ব্যবহার করেন। আঙুরে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
তবে আঙুর যতই উপকারী হোক না কেন, কিছু শারীরিক অবস্থায় এই ফল শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট কিছু সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষের আঙুর খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার। ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
চলুন জেনে নিই, কোন ৫ ধরনের মানুষের জন্য আঙুর খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
হজমের সমস্যা থাকলে : আঙুর হজম হওয়ার সময় শরীরে এক ধরনের উপাদান তৈরি হয়, যাকে অনেক সময় গ্রেপস অ্যালকোহল বলা হয়। এটি পেটে গ্যাস, পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যাদের আগে থেকেই বদহজম, গ্যাস্ট্রিক বা অন্ত্রের সমস্যা আছে, তাদের আঙুর খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
কিডনি রোগে ভুগলে : কিডনির সমস্যা থাকলে আঙুর খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা কিডনির ওষুধ বা অন্য নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে আঙুর ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কিডনি রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আঙুর না খাওয়াই নিরাপদ।
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য : গর্ভাবস্থায় আঙুর খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আঙুরে থাকা কিছু যৌগ গর্ভের শিশুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এতে শিশুর হজমের সমস্যা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই এই সময় আঙুর খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে : যাদের নাক, কান, গলা বা মুখে অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের আঙুর খেলে অ্যালার্জির উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। আঙুরে থাকা কিছু প্রোটিন শরীরে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। এতে চুলকানি, ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে : আঙুরে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালোরি তুলনামূলক বেশি থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। একইভাবে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত আঙুর খাওয়া ওজন বাড়ার কারণ হতে পারে।
আঙুর পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল হলেও সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। হজমের সমস্যা, কিডনি রোগ, গর্ভাবস্থা, অ্যালার্জি বা ডায়াবেটিস থাকলে আঙুর খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। শরীরের অবস্থা বুঝে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ফল খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সূত্র : Hindustan Times Bangla
মন্তব্য করুন