

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির মুখে ইরান যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এমন প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে দেশটি। নতুন করে সংঘাত এড়াতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার তুরস্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। তিনি বলেন, যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই তেহরানের লক্ষ্য।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সামরিক আর্মাডার’ বিশাল বহর ইরানের জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান নিচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী।
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার চেয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিই তাদের অগ্রাধিকার। ইরানি আলোচক দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার আলোচনায় বসা নয়, বরং ২০০ শতাংশ প্রস্তুতি নিয়ে দেশ রক্ষা করা।
তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে ইরান সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখবে। গত জুনে আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি একাধিক সামরিক মহড়ার পর বৃহস্পতিবার ইরানি সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, তাদের বহরে এক হাজার নতুন ‘কৌশলগত’ ড্রোন যুক্ত হয়েছে। এসব ড্রোনের মধ্যে আত্মঘাতী, যুদ্ধ, নজরদারি এবং সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন রয়েছে, যা স্থল, আকাশ ও সমুদ্রের স্থির ও চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
সেনাপ্রধান আমির হামাতি বলেন, যে হুমকির মুখে আমরা আছি, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দ্রুত ও যথাযথ জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা যে কোনো আক্রমণ সহ্য করতে এবং প্রয়োজনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম।
এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে সরকার বেসামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর গভর্নরদের জরুরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষমতা দিয়েছেন। তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি জানান, শহরে ভূগর্ভস্থ পার্কিং শেল্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তবে তা সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
মন্তব্য করুন