কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১৯ এএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যেসব কারণে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয় 

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যা বিগত বছরগুলোতে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ভূমিকম্পের সময় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির মাত্রা কেন বাড়ে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা ভূমিকম্পের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কমানো বা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

চলুন তা জেনে নেওয়া যাক—

কম্পনের মাত্রা ও স্থায়িত্বকাল

ভূমিকম্প কতটা ভয়াবহ হবে, তা নির্ভর করে দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর—এর মাত্রা ও স্থায়িত্বকাল। ভূমিকম্প মাপার প্রচলিত পদ্ধতি রিখটার স্কেল হলেও এখন আরও নির্ভুলভাবে মাপার জন্য মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল (Mw)ব্যবহৃত হচ্ছে। রিখটার স্কেলকে পুরোনো মনে করা হলেও, যেকোনো স্কেলেই কম্পনের মাত্রা বিশ্লেষণ করা জরুরি।

ভূমিকম্পের মাত্রা বলতে বোঝানো হয়, ভূ-অভ্যন্তরের টেকটোনিক প্লেটগুলো কতটা সরেছে এবং সেই সরানোর পেছনে কী পরিমাণ শক্তি কাজ করেছে। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ মূলত বিভিন্ন প্লেট দিয়ে তৈরি, যা নরম স্তরের ওপর ভাসছে। যেখানে এক প্লেট আরেকটির সঙ্গে ধাক্কা খায় বা ফাটল ধরে, সেটাই ফল্ট লাইন নামে পরিচিত। এখান থেকেই ভূমিকম্পের উৎপত্তি।

কম্পনের মাত্রা যদি ২.৫ বা তার কম হয়, সাধারণত মানুষ তা টের পায় না, তবে ভূমিকম্প পরিমাপের যন্ত্রে ধরা পড়ে। পাঁচ মাত্রার বেশি কম্পন হলে তা অনুভূত হয় এবং সামান্য ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে। সাত মাত্রার ওপরে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে, আর আট মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকে।

এ ছাড়া ভূমিকম্পের স্থায়িত্বও ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কয়েক সেকেন্ডের কম্পন তেমন প্রভাব ফেলে না, কিন্তু মাঝারি থেকে বড় ভূমিকম্প কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, যা কয়েক মিনিট স্থায়ী ছিল। সেই কম্পনের পরিণতিতে সুনামি আঘাত হানে এবং ১৪টি দেশে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইন্দোনেশিয়া।

ভূমিকম্পের মাত্রা ও স্থায়িত্ব তাই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র বদলে দিতে পারে। এ কারণেই ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

গভীরতা

ভূমিকম্প কতটা শক্তিশালী হবে, তা শুধু কম্পনের মাত্রার ওপর নির্ভর করে না। অনেকটা নির্ভর করে ভূমিকম্পের গভীরতা ওপর। কম্পনটি মাটির কতটা গভীরে ঘটেছে, সেটার ওপরও নির্ভর করে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা।

এ বিষয়ে ভূতত্ত্ববিদ ড. কারমেন সোলানা বলেন, ভূমিকম্প যদি অগভীর হয়, তাহলে এর শক্তি ও কম্পন প্রশমিত হওয়ার সুযোগ কম থাকে। ফলে মাটির ওপরে প্রভাব তীব্র হয়, ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হয়।

ভূমিকম্পের মাত্রা যতই বেশি হোক না কেন, যদি সেটি গভীরে ঘটে, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। তাই ভূমিকম্প বিশ্লেষণে মাত্রার পাশাপাশি গভীরতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ভবনের অবস্থা

ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে সহনশীল ঘরবাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়। এ জন্য এমন ভবন তৈরি করতে হয়, যা প্রবল কম্পনেও স্থিতিশীল থাকে। জাপান এ ক্ষেত্রে সারা বিশ্বের জন্য এক উদাহরণ।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং কাঠামোগত প্রকৌশলী জুন সাতো বলেন, ভূমিকম্পের সময় যদি কোনো ভবন সৃষ্ট শক্তিকে শোষণ করতে সক্ষম হয়, তবে সেটি ধসে পড়ে না।

এর পেছনে মূল বিষয়টি হলো, ভবনকে এমন একটি ভিতের ওপর দাঁড় করানো, যা ভূমিকম্পের কম্পন শোষণ করতে পারে। সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার পুরু রাবারের ব্লক ব্যবহার করে এমন ভিত তৈরি করা হয়। তবে এই প্রযুক্তি ব্যয়বহুল, ফলে নির্মাণ খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়।

যেখানে ভূমিকম্পের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়, সেসব এলাকায় সাধারণত ভবনগুলো দুর্বল উপাদানে তৈরি হয়। যেমন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মরক্কোর ভূমিকম্পে যেসব ঘর ধসে পড়েছিল, তার বেশিরভাগই ছিল সূর্যের তাপে শুকানো ইটের তৈরি, যা ভূমিকম্প সহনশীল নয়।

মাটির ধরন

ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা শুধু কম্পনের শক্তির ওপর নির্ভর করে না, মাটির ধরনও এতে বড় ভূমিকা রাখে। মাটি কতটা শক্ত বা তার ওপরের স্তরের কী প্রকৃতি, তার ওপর নির্ভর করে ভূমিকম্পের প্রভাব কতটুকু বাড়বে বা কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) অনুযায়ী, যদি ভূপৃষ্ঠ বা এর কাছাকাছি স্তরে কাদামাটি থাকে, তবে সেটি শক্তিশালী কম্পন সহ্য করতে পারে না। কম্পন শুরু হলে, মাটি তরল পদার্থের মতো আচরণ করতে শুরু করে, যার ফলে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়ে। ১৯৬৪ সালে জাপানে নিগাতয় ভূমিকম্পে ঠিক এমন পরিস্থিতি ঘটেছিল।

এটি স্পষ্ট যে, ভূমিকম্পের ক্ষতি এবং প্রভাব শুধু কম্পনের মাত্রার ওপর নয়, মাটির ধরনও প্রভাবিত করে ক্ষতির পরিমাণ।

কালবেলা/এমএইচ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

দুপুর ১টার মধ্যে দেশের যেসব অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি হতে পারে

এমপির নির্দেশে উন্মুক্ত হলো তিন বছর ধরে বন্ধ কালভার্ট, জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ৩০০ পরিবারের

জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের থেকে ৫৭ বছরের ছোট তার দ্বিতীয় স্ত্রী

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার

চাটখিলে সাংবাদিককে হুমকি, থানায় লিখিত অভিযোগ ভুক্তভোগীর

২১ দিনে জাবির মেডিকেল সেন্টার থেকে উধাও সাড়ে ১৯ হাজার ওষুধ

প্রবাসী ছেলের জন্য ওষুধ পাঠিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না মায়ের

‘যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে নদীপাড়ে চলে আসেন, বাঁধ ভাঙছে’

প্রকল্পের অব্যয়িত প্রায় ৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

১০

ভারতে পাচারের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৬৫ কচ্ছপ জব্দ, সালদা নদীতে অবমুক্ত

১১

মহাকবি কায়কোবাদ স্মরণে নবাবগঞ্জে ‘আজান’ কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

১২

সারাদেশে খাল খননের নামে বালু-মাটি লুটপাট করা হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১৩

গোয়ালন্দে ওয়ে ব্রিজ স্কেলের গার্ডার ভেঙে বন্ধ ওজন কার্যক্রম, ভোগান্তিতে ট্রাকচালকরা

১৪

নড়াইল জেলা ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র আহ্বায়ক জাকারিয়া, সদস্যসচিব সাগর

১৫

স্কুলে যাওয়ার পথে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

১৬

নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে ববি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৭

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

১৮

ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

১৯

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

২০
X