

আপনি যদি এমন একটি গাছ খুঁজে থাকেন, যা দেখতে সুন্দর আবার খুব বেশি যত্নও লাগে না, তাহলে বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস হতে পারে ভালো পছন্দ। এই ক্যাকটাসের পাতা চ্যাপ্টা ও গোলাকার হয়, যা দেখতে অনেকটা খরগোশের কানের মতো।
তাই একে বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস বলা হয়। ঘরের ভেতর কিংবা বারান্দা বা ছাদে এই গাছ সহজেই সৌন্দর্য বাড়াতে পারে।
দেখতে নরম লাগলেও এই ক্যাকটাসে থাকে খুব সূক্ষ্ম ও ধারালো কাঁটা। তাই ধরার সময় সতর্ক থাকা জরুরি। সঠিকভাবে যত্ন নিলে এই গাছ বহু বছর সুস্থ ও সুন্দর থাকে।
বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস খুব বেশি ঝামেলাপূর্ণ নয়। তবে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত আলো দিন
এই ক্যাকটাস উজ্জ্বল ও সরাসরি সূর্যালোক পছন্দ করে। প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা আলো পেলে গাছ ভালো থাকে। ঘরের ভেতরে রাখলে দক্ষিণ বা পশ্চিমমুখী জানালার পাশে রাখা ভালো। বাইরে রাখলে এমন জায়গা বেছে নিতে হবে, যেখানে দিনের বেশিরভাগ সময় রোদ থাকে। পর্যাপ্ত আলো পেলে পাতাগুলো মোটা ও শক্ত হয়।
পানি ঝরতে পারে এমন মাটি ব্যবহার করুন
এই ক্যাকটাস মরুভূমির গাছ হওয়ায় এমন মাটি দরকার, যেখানে পানি জমে থাকে না। ক্যাকটাস বা সাকুলেন্টের জন্য তৈরি মাটি সবচেয়ে ভালো। চাইলে বালু মিশিয়ে নিজেও মাটি তৈরি করা যায়। সাধারণ বাগানের মাটি ব্যবহার করা ঠিক নয়, কারণ এতে পানি ধরে থাকে এবং শিকড় পচে যেতে পারে।
পরিমিত পানি দিন
অতিরিক্ত পানি দেওয়া এই গাছের সবচেয়ে বড় সমস্যা। মাটি পুরোপুরি শুকানোর পরেই পানি দিতে হবে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরপর পানি দিলেই যথেষ্ট। শীতকালে আরও কম পানি লাগে। বেশি পানি দিলে পাতা নরম হয়ে বাদামি রঙ ধরতে পারে।
উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় রাখুন
বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস উষ্ণ ও শুষ্ক পরিবেশে ভালো থাকে। ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা এই গাছের জন্য উপযোগী। গরম সহ্য করতে পারলেও ঠান্ডা ও তুষারপাত একেবারেই সহ্য করতে পারে না। ঠান্ডা এলাকায় থাকলে টবে লাগিয়ে শীতকালে ঘরের ভেতরে রাখাই ভালো।
সার খুব কম দিন
এই ক্যাকটাসের খুব বেশি সার প্রয়োজন হয় না। বছরে একবার, বসন্তের শুরুতে সামান্য ক্যাকটাসের সার দিলেই যথেষ্ট। শীতকালে সার দেওয়া উচিত নয়, কারণ তখন গাছ বাড়ে না।
ছাঁটাই ও নতুন গাছ তৈরি
বসন্তকালে দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত পাতা কেটে ফেললে গাছ ঝরঝরে ও সুন্দর থাকে। সুস্থ পাতাগুলো দিয়ে নতুন গাছও তৈরি করা যায়। কাটা পাতাটি কয়েক দিন শুকিয়ে নিয়ে ক্যাকটাসের মাটিতে লাগালে ধীরে ধীরে নতুন গাছ জন্মায়।
পোকামাকড় ও রোগের দিকে নজর রাখুন
সাধারণত এই গাছে তেমন সমস্যা হয় না। তবে কখনো মিলিবাগ বা স্কেলের মতো ছোট পোকা দেখা দিতে পারে। তুলোর সঙ্গে অল্প অ্যালকোহল লাগিয়ে আক্রান্ত জায়গা মুছে দিলে সমস্যা কমে যায়। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অতিরিক্ত পানি, যা শিকড় পচিয়ে দিতে পারে।
বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস কি ছোঁয়া নিরাপদ
দেখতে নরম হলেও বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস খালি হাতে ধরা নিরাপদ নয়। এতে থাকা সূক্ষ্ম কাঁটা সহজেই ত্বকে ঢুকে যায় এবং চুলকানি তৈরি করে। এই কাঁটা তুলতে কষ্ট হয় এবং কয়েক দিন অস্বস্তি থাকতে পারে। তাই এই গাছ ধরার সময় অবশ্যই দস্তানা, চিমটা বা মোটা কাগজ ব্যবহার করা উচিত। ঘরে শিশু বা পোষা প্রাণী থাকলে বিশেষ সতর্কতা দরকার।
বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস একটি আকর্ষণীয় ও কম যত্নের গাছ, যা ঘর বা বারান্দার সৌন্দর্য বাড়াতে পারে। পর্যাপ্ত আলো, সঠিকভাবে পানি দেওয়া এবং সাবধানে ধরার অভ্যাস থাকলে এই গাছ সহজেই ভালো থাকে। নতুন গাছপ্রেমী হোক বা অভিজ্ঞ কেউ, সবার জন্যই বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস একটি চমৎকার পছন্দ।
সূত্র : Times of India
মন্তব্য করুন