

চারপাশে সাদা বরফের চাদর, হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা। তিন-চার ফুট উঁচু বরফের স্তূপে পা ডুবে যাচ্ছে প্রতি পদক্ষেপে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেখানে জীবন থমকে যাওয়ার কথা, সেখানে এক তরুণ চলছেন অদম্য সাহস নিয়ে।
গলায় বরমালা, পরনে বিয়ের সাজ; কিন্তু কোনো দামি গাড়ি বা পাল্কি নয়, খাড়া পাহাড় আর বরফ পায়ে মাড়িয়েই চললেন তিনি। বিয়ের পর একইভাবে বরের হাত ধরে দীর্ঘ পথ হেঁটে নতুন জীবনে পা রাখলেন এক নববধূ।
হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার সরজ অঞ্চলে। গত কয়েকদিনের প্রবল তুষারপাতে মান্ডির জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট ঢেকে যায় পুরু বরফের আস্তরণে। পাত্র গীতেশ ঠাকুরের বিয়ের কথা ছিল ভাইচরি গ্রামের তরুণী ঊষা ঠাকুরের সঙ্গে। কিন্তু আবহাওয়া এতটাই খারাপ ছিল যে, কোনো যানবাহন চলাচলের উপায় ছিল না।
তাই কোনো উপায় না পেয়ে প্রিয়তমার কথা ভেবে গীতেশ কয়েকজন বরযাত্রীকে নিয়ে পায়ে হেঁটেই রওনা দেন। প্রায় ৭ কিলোমিটার তুষারঢাকা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে তিনি পৌঁছান কনের বাড়িতে।
সেখানে প্রথা মেনে বিয়ের সব আচার শেষ হয়। পরদিন সকালে শুরু হয় আরও কঠিন পরীক্ষা। পাল্কি নেওয়া বিপজ্জনক হওয়ায় নববধূ ঊষাও বরের হাত ধরে বরফ মাড়িয়ে হাঁটা শুরু করেন। প্রায় ৪ ঘণ্টা লড়াই চালিয়ে, খাড়া পাহাড় ডিঙিয়ে তারা যখন নিরাপদে গীতেশের গ্রামে পৌঁছান, তখন বরযাত্রীদের মুখে জয়ের হাসি। হিমাচলের এই নবদম্পতির এমন সাহসী ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। নেটিজেনরা বলছেন, সত্যিকারের ভালোবাসা যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকেও হার মানাতে পারে, তারই প্রমাণ দিলেন গীতেশ-ঊষা।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে...
মন্তব্য করুন