পানি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় অর্থাৎ হিমাঙ্কের নীচে রেখে বরফ জমানো বেশ কঠিন। তাই বড় বড় হোটেল, রেস্তোরাঁ, গবেষণাগারে বরফের পরিবর্তে ‘ড্রাই আইস’ ব্যবহার করা হয়। এই ড্রাই আইস বা শুকনো বরফের মূল উপাদান হল কার্বন-ডাই-অক্সাইড। তাই এর ব্যবহার খুব কম।
ড্রাই আইস আসলে কী?
শুকনো বরফ বা ড্রাই আইস আসলে জমাট বাঁধা কার্বন-ডাই-অক্সাইড। যার তাপমাত্রা -৭৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস থেকে যা সরাসরি জমাট বেঁধে যায়। তরল করার প্রয়োজন হয় না। যেখানে বরফের ব্যবহার করা সম্ভব নয়, সেখানে ফ্রিজিং বা কুলিংয়ের কাজে এই ড্রাই আইস ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসা, খাদ্য সংরক্ষণ, গবেষণার কাজে এ বরফের ব্যবহার করা হয়।
এই বরফ পেটে গেলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বড় বড় রেস্তোরাঁ কিংবা পানশালায় বর্তমানে এ ধরনের বরফের ব্যবহার বেড়েছে। তবে এ ধরনের বরফ বেশী ব্যবহার করা যাবে না। ড্রাই আইসের মধ্যে থাকা কার্বন-ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে। ত্বকের ক্ষতি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। বেশি ক্ষণ ধরে ত্বকের সংস্পর্শে থাকলে কোল্ড বার্ন বা ফ্রস্টবাইট হয়। তবে, ত্বকের সংস্পর্শে আসার চেয়েও ড্রাই আইস খাওয়া অনেক বেশি বিপজ্জনক। মুখের মধ্য দিয়ে এই বরফ শরীরে প্রবেশ করার সময়ে তা খাদ্যনালী এবং পাকস্থলীর টিস্যুগুলিকে হিমায়িত করে ফেলে। ফলে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। সেজন্য ড্রাই আইস ব্যবহার করতে হলে হাতে গ্লাভ্স পরে বরফ ধরার চিমটে দিয়েই তা ধরা উচিত।
মন্তব্য করুন