কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এবার মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে

দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছবি : কালবেলা
দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছবি : কালবেলা

আষাঢ়ের শেষভাগে এসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি গত কয়েকদিনে অবনতি হয়েছে। বর্তমানে কোথাও কোথাও স্থিতিশীল হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও এখনো অবনতি হচ্ছে। এর মধ্যেই দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। চলমান বন্যায় ১৮ জেলায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং বন্যাকবলিত জেলার সংখ্যাও বাড়তে পারে। আগামী মাসেও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যভাগের পর দেশে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। হতে পারে মধ্যমেয়াদি বন্যা। ইতোমধ্যে সক্রিয় হতে যাচ্ছে জোরদার মেঘ-বৃষ্টিপাতের আবহে তৈরি ভয়ংকর ‘লা নিনা’ চক্র। এতে বাড়বে বৃষ্টিপাতের মাত্রা। এতে অন্তত ১৫০ গুণ এমনকি এর চেয়েও অতি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, আগস্ট মাসে আরেকটি মৌসুমি বন্যার ঝুঁকি আছে। সেই বন্যায় কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে কিংবা বন্যা স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি না কি দীর্ঘ মেয়াদি হবে—তা ধারণা করার মতো তথ্য-উপাত্ত এখনো আমাদের হাতে আসেনি। বর্ষা মাত্র শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে বন্যা চলমান। এ মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে একটি বা দুটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। মৌসুমি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া লা নিনা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনাও আমরা দেখতে পাচ্ছি। এসব মিলিয়ে এবং ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানে আলোকে বলা যায়, আগস্টে আরেকটি বন্যার ঝুঁকি আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এসএম কামরুল হাসান বলেন, আবহাওয়া মডেল অনুসারে লা নিনা বর্তমানে নিরপেক্ষ অবস্থায় আছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে লা নিনা সক্রিয় হতে শুরু করবে এবং আগামী বছরের শুরুর দিকেও সক্রিয় অবস্থায় থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, এল নিনোর ফলে পৃথিবীর কোথাও কোথাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম হয়, অনাবৃষ্টি বা তুলনামূলক কম বৃষ্টি, কখনো কখনো খরা হয়। লা নিনা হলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা, অতিবৃষ্টি দেখা দেয়। ২০১৭-১৮ সাল ছিল লা নিনা বছর। অধিকাংশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই সময়ে হয়েছে এবং অনেকটা লা নিনার কারণে হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন নদ-নদীর ২১টি পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল কমছে অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় উভয় নদীর পানির সমতল ধীর গতিতে কমতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির সমতল বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল সার্বিকভাবে কমছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আগামী তিনদিনে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল সময় বিশেষে বাড়তে পারে। ফলে তিস্তা নদীর পানির সমতল কতিপয় পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা ও দুধকুমার নদী সংলগ্ন কুড়িগ্রাম জেলার কতিপয় নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যমুনাশ্বরী, করতোয়া, বাঙালি, আপার করতোয়া, পুর্নভবা, টাঙ্গন, ইছামতি-যমুনা, আত্রাই, মহানন্দা এবং ছোট যমুনা নদীর পানির সমতল সময় বিশেষে বাড়তে পারে। আত্রাই নদীর পানি সমতল বাঘাবাড়ি পয়েন্টে বাড়তে পারে এবং ঘাঘট নদীর পানির সমতল গাইবান্ধা পয়েন্টে কমতে পারে। ফলে সিরাজগঞ্জ জেলার আত্রাই নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে এবং গাইবান্ধা জেলার ঘাঘট নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আগামী দু’দিনে পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিনদিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাড়িচাপায় পাম্প শ্রমিকের মৃত্যু, যুবদলের সাবেক নেতা আটক

বিএনপি সবসময় ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করে : সেলিমুজ্জামান

বিশ্বকাপের আগেই বড় চমক দেখাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ

নোবেল পুরস্কারের প্রলোভনেও নড়লেন না ট্রাম্প, হতাশ মাচাদো

বেরিয়ে এলো মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘এনপিএ’র আত্মপ্রকাশ

৩২ আসনে কাদের সমর্থন দেবে, জানাল ইসলামী আন্দোলন

ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে সহকারী হাইকমিশনে নিয়োগ

ক্রিকেটারদের বহিষ্কারের স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় আসিফপত্নী

সরকারের কাজ জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা : আমীর খসরু

১০

মির্জা আব্বাস-পাটওয়ারীকে মেঘনা আলমের বার্তা

১১

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,৬৭৭

১২

গবেষণার সারসংক্ষেপ উপস্থাপনা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা মাউশির

১৩

‘গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার রাষ্ট্রের জন্য ফরজে কিফায়া’

১৪

বিএনপির ১ প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত

১৫

জোট ছাড়ার কারণ জানাল ইসলামী আন্দোলন

১৬

আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু

১৭

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ফ্রান্সের

১৮

খালেদা জিয়া স্মরণে নাগরিক শোকসভা চলছে

১৯

ইরান ইস্যুতে সামরিক নয়, কূটনৈতিক সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র

২০
X