বীর সাহাবী
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৪, ১০:১৭ পিএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৫, ১১:৩৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি তিনগুণ বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

আজারবাইজানের বাকুতে ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ইন গ্লোবাল সাউথ : চ্যালেঞ্জেস ফর ট্রিপলিং রিনিয়েবল এনার্জি বাই ২০৩০’ শীর্ষক অধিবেশনে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি : কালবেলা
আজারবাইজানের বাকুতে ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ইন গ্লোবাল সাউথ : চ্যালেঞ্জেস ফর ট্রিপলিং রিনিয়েবল এনার্জি বাই ২০৩০’ শীর্ষক অধিবেশনে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি : কালবেলা

সীমিত আর্থিক সম্পদ, প্রযুক্তিগত বাধা এবং দুর্বল নীতিগত কাঠামোসহ বিভিন্ন কারণে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরে বৈশ্বিক উত্তরের দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। এই অসমতা দূর করার জন্য, বৈশ্বিক উত্তরের দেশগুলো থেকে বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সমর্থন প্রয়োজন। ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণের দেশগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তিনগুণ বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ন্যায্য, সবুজ এবং টেকসই পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) আজারবাইজানের বাকুতে চলমান জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে আয়োজিত ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ইন গ্লোবাল সাউথ : চ্যালেঞ্জেস ফর ট্রিপলিং রিনিয়েবল এনার্জি বাই ২০৩০’ শীর্ষক অধিবেশন থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

যৌথভাবে এই অধিবেশন আয়োজন করে একশনএইড বাংলাদেশ, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি), ক্লিন এবং সাউথ এশিয়া জাস্ট ট্রানজিশন অ্যালায়েন্স (এসএজেটিএ)।

অধিবেশনটি সঞ্চালন করেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন টিমের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। তিনি দক্ষিণের দেশগুলোতে জ্বালানি খাতের অসমতার দৃশ্য তুলে ধরাসহ ন্যায্য, সবুজ ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে পরামর্শ, সমাধান ও করণীয়গুলো তুলে ধরেন।

এই অধিবেশনে জ্বালানি রূপান্তরের পথে বিদ্যমান সীমিত অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলোসহ নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা ন্যায্য, সবুজ ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সবাইকে সমতার ভিত্তিতে সবুজ জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কার্বন অফসেট। ক্যান রিপোর্ট অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৃদ্ধি সার্বিক বৈষম্য কমাতে সহায়তা করে। বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে বাধা এবং চ্যালেঞ্জসমূহ কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে জলবায়ু অর্থায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি বিনিময়সহ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

এসময় সাউথ এশিয়া জাস্ট ট্রানজিশন অ্যালায়েন্সের (এসএজেটিএ) সহ-সঞ্চালক এবং ফ্রেন্ডস অফ দ্য আর্থ ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান হেমন্ত উইথানাজি শ্রীলঙ্কার চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে বলেন, টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির বিকল্প নাই। বৈশ্বিক দক্ষিণ ও উত্তরের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

গ্রোথওয়াচ ইন্ডিয়ার সমন্বয়ক এবং এনজিও ফোরাম অন এডিবির আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য বিদ্যা দিঙ্কর ভারতের জ্বালানি রূপান্তরে জটিল দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ভারতের নীতিগুলো বিতর্কিত। আঞ্চলিক নেতৃত্বে থাকা সত্ত্বেও ভারত প্রায়ই জীবাশ্ম জ্বালানিকে সমর্থন করে।

জ্বালানি রূপান্তরে মানবাধিকার এবং ন্যায্যতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে নেপালের প্রকৃতি রিসোর্স সেন্টার (পিআরসি) এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর প্রবীণ মান সিং বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরে বৈশ্বিক উত্তরের দেশগুলি বৈশ্বিক দক্ষিণে পর্যাপ্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পারে।

এসময় অধিবেশনে ক্লিন বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক হাসান মেহেদীসহ জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঁচ বছর চাকরিতেই পেনশন, বাড়ল সর্বোচ্চ হার

বিএনপি একদলীয় শাসনে বিশ্বাসী নয় : মির্জা ফখরুল

নারীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা ওসি এনামুল প্রত্যাহার

বিশেষ সুড়ঙ্গ থেকে চিত্রনায়িকা ববির স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

ইরান যুদ্ধ ও অন্যান্য খাতে বিপুল ডলার চায় পেন্টাগন

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা ঘিরে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭৫ স্বাস্থ্যকর্মী

তিন বছর পর ওটিটিতে ফিরছেন বিদ্যা সিনহা মিম

আলোচিত তাইয়েবা হত্যা মামলার প্রধান আসামির জামিন

১০

ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেক আর নেই

১১

ইরান চুক্তি ও ট্রাম্পের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ অনেক ইসরায়েলি

১২

শ্রমিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় কারখানায় উত্তেজনা, সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা

১৩

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান মনিরুল, মহাসচিব আমানতউল্লাহ

১৪

বড় পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় ফারিন

১৫

ইঁদুরে তার কাটায় রাজধানীতে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল এআই ক্যামেরা!

১৬

ট্রাম্পের শান্তি চুক্তিতে অশান্তি করতে পারেন নেতানিয়াহু : মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

১৭

ঢাকা কলেজে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

১৮

বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি, এটা ইতিহাসে প্রথম : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

১৯

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

২০
X