সমবায় বিষয়টি আজ বাস্তবে নেই বললেই চলে মন্তব্য করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, কিছু সমবায় সমিতি এবং ফেডারেশন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ছিল। সমবায় সমিতি আইনে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ রয়ে গেছে। যে কারণে সমবায়ের যে স্বনির্ভরতার উৎসাহ তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সমবায়কে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন। এমনকি তার বাকশাল কর্মসূচিতেও সমবায়ের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর নিউমার্কেটে দৈনিক কালবেলার প্রধান কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমবায় গঠনে অন্তরায় ও উত্তরণ: প্রসঙ্গ সমবায় সমিতি আইন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও দৈনিক কালবেলা গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, শুধু সংসদীয় আলোচনায় এটার সুরাহা হবে না। সংসদের ওপরে শুধু তখনই ভরসা করা যাবে যখন বাইরে থেকে চাপ আসবে। তাই আমি বলব, যারা সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ও আন্দোলনের কর্মী রয়েছেন তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, সমবায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দেখা উচিত। নিবন্ধনের জন্য কিছু নীতিমালা থাকবে, কীভাবে নিবন্ধন হবে তার জন্য কিছু রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক থাকবে। জনমত গঠন, সমবায় আইন ও সমবায় কমিশনের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আপনারা যদি সমবায় আইন সংশোধন করতে চান এবং আমি যদি সংসদে ফিরে আসি তাহলে অবশ্যই এ বিষয়ে কথা বলব। তবে জনমানুষের মধ্য থেকে অবশ্যই সমবায় কমিশনের জন্য আন্দোলন গড়ে উঠতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সংবিধানে তিন ধরনের মালিকানার কথা বলা হয়েছে। একটি হল রাষ্ট্রীয় মালিকানা, একটি সমবায় মালিকানা এবং অন্যটি ব্যক্তি মালিকানা। যা বঙ্গবন্ধু সমবায়কে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছিলেন। এমনকি তার বাকশাল কর্মসূচিতেও সমবায়ের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি গ্রামাঞ্জলেও সমবায় গঠনের কথা বলেছেন। যাতে জমির মালিকদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি না হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সময়ে যখন আমরা রাষ্ট্রীয় মালিকানা এবং সমবায় মালিকানাকে বিদায় করে আস্তে আস্তে ব্যক্তিখাতকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনৈতিক নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ শুরু করলাম, তখন সমবায়কে আর এগিয়ে নেওয়া যায়নি।
মেনন বলেন, সমবায়কে আমরা সমবায় আন্দোলন হিসেবে দেখেছি, প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ হয়নি। সমবায় আন্দোলন বাংলাদেশে এসে অফিসিয়াল পদ্ধতিতে পড়ে গেছে। এ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিটাই পাল্টে গেছে। যেখানে রাষ্ঠীয় হস্তক্ষেপ রয়ে গেছে। তা কমাতে হবে। সমবায়কে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এটাকে নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবেই দেখা উচিত, এ বেশি নয়। আজকের আলোচনায় সমবায় আন্দোলনের চূড়ান্ত জায়গা হিসেব সমবায় কমিশন গঠনের প্রস্তাবের সঙ্গে আমি একমত।
বর্তমানে গ্রামীণ কৃষির ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের চেয়ে বেশি। যার বড় কারণ ইয়াং ছেলেরা কৃষিকাজের চেয়ে বিদেশ চলে যায়। তারা পরিবারকে রেখে যায়, তখন পরিবারের মুখ্য ভূমিকা রাখে নারী। তখন তারাই কৃষিতে ভূমিকা রাখেন। নারী কৃষি শ্রমিকের ক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য, ঋণের বৈষম্য দূরীকরণে সমবায় আন্দোলনই কেবল না নারী আন্দোলই যুক্ত থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। সবশেষ তিনি জনপ্রিয় দৈনিক কালবেলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আশা করি কালবেলা আরও পাঠকপ্রিয়তা পাবে।
মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে ও কালবেলা মাল্টিমিডিয়ার শিফট ইনচার্জ অমিত হাসান রবিনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন কালবেলার সম্পাদক ও প্রকাশক সন্তোষ শর্মা। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (সমিতি ব্যবস্থাপনা) আহসান কবীর।
আলোচক ছিলেন উপস্থিত ছিলেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন নাহার লিপি ও রাজশাহীর রুলফাওর পরিচালক আফজাল হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রিজওয়ানুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন