কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচনকেন্দ্রিক অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-অপারেশন) আনোয়ার হোসেন। ছবি : কালবেলা
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-অপারেশন) আনোয়ার হোসেন। ছবি : কালবেলা

নির্বাচনী এলাকা থেকে পুলিশ যে কোনো অভিযোগ পেলে সেটা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-অপারেশন) আনোয়ার হোসেন। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতার ঘটনা অব্যাহত আছে। পুলিশ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশের কাছে সব প্রার্থী সমান। প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পান, সে নির্দেশনা দেয়া আছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ রেলে আগুনসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। রেল পুলিশের মাধ্যমে রেলের নিরাপত্তায় বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

বিএনপিসহ বিরোধীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের রাজনৈতিক কারণে নয়। রাজনীতি করা অপরাধ নয়। কেউ যদি রাজনৈতিক কর্মসুচির নামে যানবাহনে আগুন দেয়, ভাঙচুর করে, যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তাহলে নির্দিষ্ট মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের কারও কারও হয়তো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। সেটা না দেখে নাশকতায় সম্পৃক্ত কিনা সেটা বিবেচনায় নিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

বিএনপি জামায়াতসহ বিরোধী পক্ষের ২৬ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই তথ্য সঠিক কিনা জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, পরোয়ানা তামিলসহ বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগে সারাদেশে গড়ে ১ হাজার ৬০০ জনের মতো গ্রেপ্তার হয়। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের পদধারি সংখ্যা কতো সেটা আমাদের কাছে হিসাব নেই। সারাদেশ থেকে তথ্য নিয়ে সে হিসাব তৈরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কেউ যদি ফৌজদারী অপরাধে সম্পৃক্ত হলে শুধু পুলিশ শুধু তাদেরই গ্রেপ্তার করছে।

নির্বাচনবিরোধী লিফলেট বিতরণেও বাঁধা দেওয়া হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ ভোট কেন্দ্রে যাবে কিনা? বা ভোট না দেওয়া না দেওয়ার অধিকার ভোটারের আছে। কিন্তু ভোট দিতে বাঁধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। কোনো কোনো দুর্গম এলাকার কেন্দ্রও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সেগুলোর বিষয়েও পুলিশ বাড়তি ফোর্স দিয়ে কাজ করছে। পুলিশ অবাধ শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাত্মক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকায় বৈধ অস্ত্র প্রদর্শণ করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। বৈধ অস্ত্র প্রদর্শণ ও বহন নিষিদ্ধ করে একটি পরিপত্র জারি হয়েছে। নির্বাচনকালে কেউ বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন বা বহন করতে পারবে না। আমাদের কাছে নির্দিষ্ট এলাকায় বৈধ অস্ত্র প্রদর্শণের ২টি অভিযোগ এসেছে। আমরা তদন্ত করে দেখেছি সেগুলো ছিল খেলনা অস্ত্র।

নির্বাচন কেন্দ্রিক মারামারা ও দাঙ্গা হাঙ্গামা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেকোন ঘটনার পরই মামলা হচ্ছে। পুলিশ ওই সব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। পুলিশ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষভাব দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের কোন কর্মকর্তা নিরপেক্ষ হারানোর অভিযোগ আসলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বদলি বা প্রত্যাহার করছে। এরপরও ওই কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা কোন অভিযোগ পেলে সেগুলোর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। পুলিশ তাদেরকে সহযোগিতা করছে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারগণ যেভাবে নিরাপত্তা নির্দেশনা দিবেন পুলিশ সেভাবে কাজ করবে।

ডিআইজি অপারেশন বলেন, নির্বাচনের সময়ে সারাদেশে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার পুলিশ সদস্য কর্মরত থাকছেন। নির্বাচনের দায়িত্বে, মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং টিম, ম্যাজিস্ট্রের সাথেও ডিউটিতে থাকেন। এমনকি ওইদিন যিনি থানার সিসি লেখেন, উনিও নির্বাচনী দায়িত্বে।

দাড়ি আসামি ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা জামিনে বেরিয়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, কোনো আসামি জামিনে বেরিয়ে আসলে সে নতুন করে অপরাধে না জড়ালে পুলিশের গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। জামিন পাওয়া আসামিদের বিষয়ে পুলিশের বিশেষ নজরদারি অব্যাহত আছে। তারা কোনো অপরাধ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে থার্টিফাস্টের নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, থার্টিফাস্টের নিরাপত্তার বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে। আইজিপিও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। থার্টিফাস্ট নাইটে আতশবাজি ফুটানো ও ফানুষ উড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উন্মুক্তস্থানে কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। এ ছাড়া গুলশান, বনানী ও ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, এআইজি এনামুল হক সাগর ও পুলিশ সদর দপ্তরের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাতে ১৭২ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত, মস্কো অঞ্চলে বড় হামলা

রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে ২০২৫ সালের জন্য ৩০% ডিভিডেন্ড অনুমোদন

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা কার্ড দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

ইসরায়েলকে বলেছি হিজবুল্লাহর দায়িত্ব সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দিতে : ট্রাম্প

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান

দুজন নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম, থমথমে পরিস্থিতি

পুলিশের গাড়িবহরে হামলা, আহত ১০

জানালেন সেতুমন্ত্রী / পদ্মা রেলসেতুর পিলারের মাটি খুঁড়ে নেওয়া হয়েছে, ‘বিষয়টি এমন নয়’

শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

১০

পুলিশের গুলিতে ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ, আটক ৪

১১

নদীবন্দরে সতর্কতা, বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১২

বৃদ্ধের বিবস্ত্র মরদেহ পড়েছিল পাহাড়ের চূড়ায়

১৩

মায়ের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন বিএনপির সংসদ সদস্যের

১৪

গম আমদানি রেকর্ড উচ্চতায়, কমছে চাষের জমি

১৫

গ্যাস বিস্ফোরণে বাবা-মা-ভাইয়ের পর চলে গেল মিমও

১৬

কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

১৭

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারের সঙ্গে সূর্যবংশীর হাতাহাতি 

১৮

আরও ভূমি দখলের দাবি রাশিয়ার, পাল্টা প্রতিরোধের কথা বলছে ইউক্রেন

১৯

ইরানের সঙ্গে আলোচনার পরবর্তী ধাপ আরও সহজ হবে : ট্রাম্প

২০
X