

ইরাকের কিরকুক শহরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরের তেসিন এলাকার মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় আকারের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। বিক্ষোভকারীরা জানান, বারবার অভিযোগ জানানো হলেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী কানবার বলেন, আমরা অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছে গেছি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, অথচ আমাদের কথা কেউ শুনছে না।
আরেক বিক্ষোভকারী আব্বাস হুসেইন জানান, আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার জন্য তারা প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় সরকার ও বিদ্যুৎ বিভাগকে অবিলম্বে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু করা এবং বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ত্রুটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানান। তাদের মতে, এই সংকট আর বিলম্ব করা যায় না।
কিরকুকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। প্রদেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সরবরাহ দুর্বল। ২০২২ সালে তৎকালীন গভর্নর রাকান আল-জুবৌরি জানিয়েছিলেন, কিরকুক দিনে গড়ে মাত্র ১০ ঘণ্টা জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পায়, যা ইরাকের মধ্যে সবচেয়ে কম সরবরাহের একটি। অন্যদিকে দেশের কিছু প্রদেশে দিনে ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
দীর্ঘ যুদ্ধ, অবকাঠামোর ক্ষতি, পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে ইরাক বহু বছর ধরেই বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। ইকো ইরাক অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা যেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে উৎপাদন হয় মাত্র প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট।
এ পরিস্থিতিতে কিরকুকসহ বিভিন্ন শহরে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। আর বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন এক রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন রূপ নিয়েছে সরকারবিরোধী এক গণবিস্ফোরণে। দেশজুড়ে এখন বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে মাশহাদ, ইসফাহানসহ অন্তত ১০০টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজপথগুলো এখন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর লড়াইয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
গত কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও হাসপাতাল সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিলেও পিছু হটছে না বিক্ষোভকারীরা। বিশেষ করে গত শনিবার রাতে বিক্ষোভের তীব্রতা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে খোদ রাজধানী তেহরানের সড়কগুলো আন্দোলনকারীদের দখলে চলে যায়। অনেক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে।
মন্তব্য করুন