ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩, ০৬:৫৪ পিএম
আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৩, ১২:০৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ

সহিংসতা বাড়লে জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে

ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং তার মিত্ররা ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। সেটাকে ঘিরেই উত্তপ্ত অবস্থা তৈরি হয়। গণমাধ্যম ও সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে আমরা যে ছবি ও ভিডিও দেখতে পেলাম তাতে মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থা যদি চলতে থাকে এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে জরুরি অবস্থা জারির দিকে চলে যেতে পারে সরকার।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালা বদলের সময় সহিংসতার ঘটনা বলা যেতে পারে মোঘল ট্র্যাডিশন। বর্তমান বাংলাদেশে সেটি আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। প্রতিবার সিংহাসনে বা মসনদে কে বসবে তা নিয়ে যুদ্ধ হতো। উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা এই ঐতিহ্য লাভ করেছি। তবে এটি একবিংশ শতাব্দীতে কাম্য নয়। দেশটা সবার। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সারাজীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে সংগ্রাম করেছেন, তার যে আত্মত্যাগ—সেটি মনে রেখে আমরা আমাদের পরস্পরের ভিন্নমত এবং সহাবস্থানে মনোযোগী হতে হবে।

এখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও ভূমিকা আছে। তারা সহিংসতা চান না, তারা চান একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। চটজলদি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, বিষয়টি তেমনও নয়। এর জন্য নতুন একটা জেনারেশন লাগবে। যে জেনারেশন এগুলো দেখে অভ্যস্ত সে জেনারেশনের মাইন্ডসেট পরিবর্তন হতে সময় লাগবে। আমরা ডেমোক্রেসির ইললিবারেল স্টেটে অবস্থান করছি। লিবারেল ডেমোক্রেসিতে পৌঁছাতে আমাদের সময় লাগবে। হয়তো ২০৪১ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যখন আমরা উন্নত হবো তখন আমরা উদার গণতন্ত্রের পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হবো।

মূল বিষয়টি হলো—‘যে যায় লঙ্কায় সে-ই হয় রাবণ।’ ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ পালাবদল নিশ্চিত করার মেকানিজম আমাদের আবিষ্কার করতে হবে। এটা করতে হবে সার্বজনীন স্বার্থে। সামগ্রিকভাবে সকলপক্ষকে এ কাজটা করতে হবে। যার যতটুকু ভূমিকা আছে তা পালন করতে হবে। এককভাবে সরকার বা বিরোধীপক্ষের দ্বারা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও ভূমিকা পালন করতে পারে।

সমঝোতার উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিতে হবে। এর আগে আমাদের মনে আছে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তারানকো সাহেব বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। আলোচনার পথ খোলা রাখতে হবে। আমরা যেহেতু অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন করতে পারছি না সেহেতু প্রয়োজনে তারানকোর উত্তরসূরি যিনি, তাদের কাউকে সাক্ষী মেনে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।

ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ: রাজনীতি বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংগঠন জানিপপের চেয়ারম্যান

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন বাড়ছে প্রায় আড়াই গুণ

আসছে মন্টু পাইলট-৩

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় হতে হবে : দুলু

ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল

রিশাদের জন্য সুখবর!

সুখবর পেলেন বিএনপির আরেক নেতা

বিয়ে নিয়ে যা বললেন সুনেহরাহ

নিয়ম যখন নিয়ম ভাঙার লাইসেন্স হয়ে ওঠে

যে কারণে দাভোস সম্মেলনে সানগ্লাস পরে বক্তব্য দিলেন মাখোঁ

১০

শাবিপ্রবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীদের

১১

শিবির নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল 

১২

গণভোট নিয়ে অবস্থান জানাল বিএনপি

১৩

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত নির্ধারণ করল কমিশন?

১৪

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন ও ছুটি নির্ধারণ করে দিল সরকার

১৫

রোগীদের সুস্থতায় নার্সদের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ : মেয়র শাহাদাত

১৬

বছরে ১০-২০টি করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে উত্তর কোরিয়া

১৭

র‍্যাঙ্কিংয়ে নতুন রাজার নাম ঘোষণা করল আইসিসি

১৮

খালেদা জিয়া বিএনপিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে গেছেন : ড. মোশাররফ

১৯

এ সপ্তাহের হলি-ওটিটি

২০
X