কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩, ১১:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৩, ১১:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঢাকায় বিএনপির কর্মসূচিতে আহত ৫০০, গ্রেপ্তার ১২৪

নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : কালবেলা
নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : কালবেলা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গত শুক্রবার ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে মানুষের বাঁধভাঙা ঢলে শেখ হাসিনার হিংসা বৃদ্ধি পেয়েছে অতুগ্র্য মাত্রায়। তাই গতকালের মহাসমাবেশ থেকে ঘোষিত আজকে ঢাকা মহানগরে প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচিকে তারা রক্তের হোলি খেলায় পরিণত করেছে।

শনিবার (২৯ জুলাই) রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন : আবারও নাটক করছে সরকার : মির্জা ফখরুল

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সরকারদলীয় সশস্ত্র ক্যাডাররা। ব্যাপক গুলিবর্ষণ, অজস্র কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও বেপরোয়া লাঠিচার্জে অগণিত নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করা হয়। এই নারকীয় আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাননি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও। তাকে রাস্তায় ফেলে মাথায় ও হাতে-পায়ে নির্দয়ভাবে আঘাত করা হয়, যা মনুষ্যত্বহীন আক্রমণ। গাবতলীর অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমানকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশ আটক করে। উপর্যুপরি আঘাত ও গ্রেপ্তার করা হয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে। আজকে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডারদের যৌথ অ্যাকশনে শেখ হাসিনার ব্যাপক জুলুম নিপীড়নের আরেকটি নৃশংস অধ্যায় রচিত হলো।’

আরও পড়ুন : বিএনপি আবারও আগুনসন্ত্রাসের দিকে ধাবিত হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বলেন, আজকের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আহত হয়েছেন ৫০০ জন এবং ১২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৯ মে হতে অদ্যাবধি বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মোট মামলা ৩২০টি, মোট গ্রেপ্তার ১ হাজার ৫১৪ জন, মোট আসামি প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনেরও অধিক নেতাকর্মী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী সরকারের পদে পদে ব্যর্থতা। দুর্নীতি, গুম, হত্যা, লক্ষ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার সবক্ষেত্রেই তারা এক নম্বর। দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের পথ খুলে দেওয়ার উদ্দেশ্য- এসব সম্পদ যেন আওয়ামী নেতাকর্মীদের পকেটে গিয়ে জমা হয়। দিনকে দিন বিএনপির সমাবেশে, মিছিলে অসংখ্য মানুষ যোগ দিচ্ছে। এতে সরকার ভীত হয়ে পড়েছে। আর এজন্য বিএনপির কর্মসূচিতে জুলুমের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নিরীহ নেতাকর্মীকে বেছে বেছে খুন, জখম করার পরও এদের কখনোই শাস্তি হয়নি বলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সহিংস কার্যকলাপ চালাতে উৎসাহিত হচ্ছে। এই দুর্বৃত্তরা দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবেশ শতধাবিভক্ত করে হানাহানিতে ক্লেদাক্ত করেছে।

আরও পড়ুন : বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে : নানক

রিজভী বলেন, ‘আজকের অবস্থান কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করা হলেও পুলিশ সেটিকে অগ্রাহ্য করে শেখ হাসিনার মনঃতুষ্টির জন্য দমনের যে ভয়ঙ্কর রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে তা নজিরবিহীন। বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ এবং বেধড়ক লাঠিচার্জের মাধ্যমে শারীরিক ক্ষতি ও নির্বিচারে গ্রেপ্তারের যে হিড়িক দেখা গেল তা আওয়ামী অবৈধ কর্তৃপক্ষের এক নির্লজ্জ নাৎসীরুপের হিংস্র বহিঃপ্রকাশ। আজ শনিরআখড়া, মাতুয়াইল, ধোলাইখাল, গাবতলী, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, সাইনবোর্ড এলাকা ছিল রক্তাক্ত প্রান্তর। অসংখ্য গুরুতর আহত নেতাকর্মী এখন হাসপাতালে হাসপাতালে কিংবা বাসাবাড়িতে কাতরাচ্ছে। আহত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য হাসপাতালেও হানা দিচ্ছে পুলিশ।

তিনি বলেন, আজকে ঢাকার প্রবেশ পথে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি ছিল এক দফার চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি। শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক দফা আন্দোলন এখন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। কারণ সংবিধান থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা মুছে দিয়ে শেখ হাসিনা ভোটারদের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সারা দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে এক দফার আন্দোলনের নানা কর্মসূচিতে। তাই শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রীরা ক্ষুব্ধ ও বিকারগ্রস্ত। প্রতিশোধের নেশায় তারা অস্থির হয়ে উঠেছে। এই কারণেই দলীয় চেতনায় গড়ে তোলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের ফ্রি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বিএনপির কর্মসূচিতে আক্রমণ চালানোর। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর যৌথ আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান এবং অ্যাডভোকেট সালামসহ গ্রেপ্তারকৃত সব নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি ও আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবু আশফাক, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। এ ছাড়াও আজ উত্তরায় বিএনপির দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের নেতৃত্বে বিকেল ৪ ঘটিকায় হোটেল লা মেরিডিয়ানের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মেইন রোডে একটি মিছিল করে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ ও অন্যান্য ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে মিছিল করতে থাকলে পুলিশ এসে হামলা চালায়। ফলে বিক্ষুব্ধ মুক্তিকামী জনতা বেশকিছু গাড়ি ও বাস ভাঙচুর করে। এ সময় অনেকের মধ্যে ব্যাপকভাবে আহত হন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মো. সোহরাব হোসেন সুজনসহ বেশকিছু নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন : সরকারের পতন ছাড়া ঘরে ফিরব না : নুর

রিজভী বলেন, আজকের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উদরাতুল বারি আবু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান ইয়াহিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় বিভিন্ন স্থানের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও হামলার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

আহত সাংবাদিকদের তালিকা

এদিকে আজ দিনব্যাপী সচিত্র সংবাদ সংগ্রহকালে দায়িত্বরত সাংবাদিকরাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ববের্রাচিত হামলা থেকে রেহাই পায়নি বলে জানান রিজভী। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশী হামলায় আহত হন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মাহফুজ কবির মুক্তা, যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার শরিফুল ইসলাম, মানবজমিন পত্রিকার রিপোর্টার নূরে আলম জিকু, মোহনা টেলিভিশনের রিপোর্টার হুমায়ুন কবির, নিউজ-২৪’র রিপোর্টার আরেফিন সাকিল ও ক্যামেরাপারসন আজনবী, চ্যানেল আইয়ের রিপোর্টার আক্তার হোসেন ও ক্যামেরাপারসন মনির হোসেন; দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার ফটো সাংবাদিক এস এ মাসুম, দৈনিক কালবেলা পত্রিকার নাসির উদ্দীন। এ ছাড়াও পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম, মিডিয়া সেলের প্রতিনিধি নুরুল আমিনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ১২ বিলিয়ন ডলার’

৪৫ এর কম এবং ৬৫ এর বেশি বয়সে ব্যাংকের এমডি পদ নয়

শাবিতে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত

বইমেলায় রাশিদুল হাসান বাচ্চুর ‘ওয়াকিং অন দি পাথ অব পোয়েট্রি’

শেষ সময়ে বইমেলার নিরাপত্তায় ঢিলেঢালা

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল চান সাইফুল হক 

জাবির দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ বাতিলের দাবি

শিশু চুরির মামলায় দুই নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বিআরটিসি যেন আর পিছিয়ে না যায় : তাজুল ইসলাম

ঢাবির নাটমণ্ডলে মঞ্চায়িত হচ্ছে থিয়েটার বিভাগের নাটক ‘সিদ্ধান্ত’

১০

টিআইবির ফেলোশিপ পেলেন সাংবাদিক সজিবুর রহমান

১১

রংপুরে এরিক ও বিদিশার ওপর হামলার অভিযোগ

১২

বইমেলার সময় বাড়ল

১৩

রিহ্যাব নির্বাচনে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের নিরঙ্কুশ জয়

১৪

৬ মাস বিশ্ববাজারে পেট্রোল বিক্রি করবে না রাশিয়া

১৫

ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০

১৬

গাধা বেচবে চিড়িয়াখানা

১৭

রাজধানীতে ৬ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

১৮

হকিতে মেরিনার্স-আবাহনীর সহজ জয়

১৯

ভিনদেশের মোহ কেটেছে জামালের! 

২০
X