কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৯:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লোগো। ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লোগো। ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় অফিস খোলার উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে সহায়ক উপাদান সম্পর্কে দেশবাসীকে বিস্তারিত অবহিত না করে উপদেষ্টা পরিষদের এই বিষয়ে সম্মতি দেওয়া আমাদের বিস্মিত করেছে।

সোমবার (১৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় মানবাধিকার পশ্চিমাদের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের মতো একটা প্রতিষ্ঠান যাদের একচোখা নীতি বিশ্বব্যাপী নিন্দনীয়, যাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকারকে ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত রয়েছে তাদের কার্যালয় খোলার অনুমতি প্রদান দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বিপদ ডেকে আনবে বলে আমরা মনে করি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারের সংজ্ঞা সর্বজনবিদিত না বরং পশ্চিমা দর্শন প্রভাবিত; যা অনেক মাত্রাতেই বাংলাদেশসহ প্রাচ্যের সমাজ-দর্শন ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জাতিসংঘের মানবাধিকারের সংজ্ঞার মধ্যে সমকামিতার বৈধতা দেওয়া, ট্রান্সজেন্ডারকে স্বীকৃতি দেওয়া, গর্ভপাতের অধিকার দেওয়া, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষকে একই বর্গে অন্তুর্ভুক্ত করা, যৌনশিক্ষাকে উন্মুক্ত করা এবং মৃত্যদণ্ডকে রহিত করার মতো বিষয় অন্তুর্ভুক্ত। উপর্যুক্ত প্রত্যেকটা বিষয় আমাদের হাজার বছরের বোধ-বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এখন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের কার্যালয় এই বিষয়গুলোকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অতি খারাপ বলে প্রতিবেদন করবে। যা বিশ্বে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান, ভ্রমণকে বাঁধাগ্রস্ত করবে এবং বাংলাদেশে বৈদেশিক পর্যাটনকে নিরুৎসাহিত করবে।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক এই কার্যালয় প্রাথমিকভাবে এখন সমকামিতাসহ উপর্যুক্ত বিষয়ে মানুষের মনোভাব তাদের অনুকূল করার জন্য নানা প্রচারণা চালাবে, ফন্দি-ফিকির করবে। প্রথম কথা হলো, যা আমাদের সমাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না, যাতে আমাদের কোন কল্যাণ নাই এমন বিষয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার সুযোগ আমরা কেন দেবো? দ্বিতীয়ত প্রত্যেকটা বিষয় যেহেতু মানুষের হাজার বছরের বোধ-বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত তাই সমাজের ভেতর থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আসবে এবং প্রতিরোধ হবে। তখন মানুষের সহজাত প্রতিরোধকে নেতিবাচকভাবে সারা বিশ্বে উপস্থাপন করা হবে। সামগ্রিকভাবে এই কার্যালয় স্থাপনের কোন ইতিবাচক দিক নাই। বরং এর সব মাত্রাতে দেশের ক্ষতি ও বিপদের সম্ভাবনা পরতে পরতে বিরাজমান। তাই কার্যালয় স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত থেকে অবশ্যই সরে আসতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব বলেন, ফিলিস্তিনে হাজার হাজার শিশু, নারী ও নিরিহ মানুষ হত্যা বন্ধে জাতীসংঘকে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। ফিলিস্তিনিদের ক্ষুধার যাতনায় হত্যার প্রতিবাদে পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। রোহিঙ্গাদের জন্য বেশি উৎসাহী হওয়া উচিত।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুই নেতার ব্যক্তিগত মেসেজ ফাঁস করে দিলেন ট্রাম্প

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে পোস্টাল ভোটবিষয়ক মতবিনিময়

পার্টটাইম চাকরি দেবে এসএমসি

মানবতাবিরোধী অপরাধ / জয়-পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

সাভারে শীতার্ত মানুষের পাশে বিএনপি

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সিরিয়ায় ড্রোন হামলা

টাঙ্গাইলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ৯ প্রার্থী

বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগের ১৫ নেতাকর্মী

গাজা ইস্যুতে ফ্রান্সকে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

১০

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা

১১

বিএসআরএম কারখানায় বিস্ফোরণ

১২

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৩

বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১৪

২১ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৫

নিহত র‍্যাব সদস্য মোতালেবের দাফন সম্পন্ন, গার্ড অব অনার প্রদান

১৬

বিএনপিতে যোগ দিলেন উপজেলা খেলাফত আন্দোলনের সভাপতিসহ ১২ নেতাকর্মী

১৭

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় জেডআরএফের শীতবস্ত্র বিতরণ

১৮

ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে রয়েছে : শেখ বাবলু

১৯

রক্তস্পন্দন প্ল্যাটফর্মে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের উদ্বোধন

২০
X