কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:১২ পিএম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন ভিসানীতি নিয়ে বিএনপিই বিপর্যয়ের মুখে : ড. সেলিম মাহমুদ

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেছেন, মার্কিন ভিসানীতি নতুন কোনো বিষয় নয়। এটি এ বছরের ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল। এই ভিসানীতি তারা প্রয়োগ শুরু করেছে। এই ভিসানীতি বিরোধীদলের ওপরেও প্রযোজ্য। শুধু তাই নয়, এই নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ছে বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠী।

তিনি বলেন, এই ভিসানীতির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচনকে যারা বাধাগ্রস্ত করবে তাদের ওপরে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করছে না, নির্বাচনও প্রতিহত করছে না। তাই এই নীতি প্রয়োগের ফলে ‌আওয়ামী লীগের কোনো অসুবিধা নেই।

ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং এর স্থিতিশীলতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অবদান। এদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা তার মাধ্যমেই পুনরুদ্ধার হয়েছে। তিনি এদেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা একটি টেকসই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার করেছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি মোট ৮২টি সংস্কার করেছেন। এদেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কারও গণতন্ত্রের জন্য মায়া কান্না মানায় না।

সেলিম মাহমুদ বলেন, মার্কিন ভিসানীতির প্রয়োগের ফলে কয়েকটি কারণে বিএনপির রাজনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির কারণে আওয়ামী লীগের কোনো অসুবিধা হবে না। ভিসানীতি ঘোষণার পর যে চারটি কারণে বিএনপির রাজনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সেই কারণগুলো হচ্ছে-

এক, এতদিন বিএনপি বলে আসছিল, তারা কোনো অবস্থাতেই শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। প্রয়োজনে যে কোনো মূল্যে নির্বাচন প্রতিরোধ করবে তারা। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মার্কিন নতুন নীতি অনুযায়ী নির্বাচন প্রতিরোধ করা সবচেয়ে বড় অপরাধ। তাই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন প্রতিহত করার বিএনপির সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে। নির্বাচন প্রতিহত করার লক্ষ্যে বিএনপির যে কোনো সন্ত্রাস ও নাশকতা মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বে।

দুই, বিএনপির বিগত কয়েক বছরের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। তারা বলে আসছে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছাড়া শেখ হাসিনার অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপির আন্দোলনের প্রতি সহায়ক কিংবা সহানুভূতিশীল কোনো বক্তব্য নেই। এই নীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কোনো স্বীকৃতি নেই। মার্কিন এই নীতির ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিটি ভেস্তে গেল। অথচ বিএনপি এতো বছর দেশের রাজনীতির মাঠ ছেড়ে শুধু বিদেশিদের ওপরই নির্ভর করেছিল।

তিন, বিএনপি প্রায় দুই বছর ধরে বলে আসছিল, নির্বাচনের আগে এমন একটি বিদেশি স্যাংশন আসবে যার ফলে আওয়ামী লীগ সরকার লন্ডভন্ড হয়ে যাবে। এর ফলে বিএনপি তাদের সুবিধাজনক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবে। নির্বাচন চলে এলো। কোনো স্যাংশন এলো না। বরং যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা এলো, সেটি তাদের নির্বাচন প্রতিহত করার ষড়যন্ত্র অনেকটা নস্যাৎ করে দিল।

চার, বিএনপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলে আসছিল, বিএনপি নির্বাচনে না এলে সে নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে অংশগ্রহণমূলক না হওয়ার কারণে গ্রহণযোগ্য হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এ নীতির ফলে বাংলাদেশ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি স্বেচ্ছায় নির্বাচনে না এলে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না- এই ধরনের কোনো বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিতে নেই। তারা নিজে থেকে নির্বাচন বর্জন করলে এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না- এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতির ফলে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন তারা পাবে না - এটি পরিষ্কার। মোটা দাগে বলতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতির কারণে বিএনপির নির্বাচন ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেল। পাশাপাশি শেখ হাসিনার অধীনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যাবে- এরকম অপপ্রচার যারা করছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতির কারণে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানের সঙ্গে মার্কিন সমঝোতার পরও ইসরায়েলি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬

‘অপবাদ’ একটি জঘন্যতম কবিরা গুনাহ 

পেনশন-অবসর সুবিধায় বড় পরিবর্তন: একাধিক সুবিধা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

৫ শিক্ষার্থীর জন্য ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী

আগস্টে সারা দেশে শোডাউনের চিন্তা আ.লীগের, ২ ডজন কমিটি গঠন

ছুটির সকালে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো কত?

অভিযানে গিয়ে গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য

ক্ষতিকর রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছিল শিশুখাদ্য

বিশ্বকাপে মহাকাব্যিক রাত, ড্রেসিংরুমে ছুটে গেলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ যুবকের

১০

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা

১১

আটকে পড়া প্রবাসীদের সুখবর দিল আমিরাত

১২

সমালোচকদের তীরে বিদ্ধ রোনালদোর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন বোন

১৩

নিউইয়র্কের রাস্তায় ‘অচেনা’ পর্যটক বেশে বিশ্বকাপে ঝড় তোলা হালান্ড!

১৪

নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৩৫

১৫

বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জামায়াতের মামলা

১৬

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষ, নিহত বেড়ে ৩

১৭

কোরিয়াকে হারিয়ে সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো

১৮

বিশ্বকাপের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনার অবস্থান কত?

১৯

দ্বিতীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনা একাদশে বড় পরিবর্তনের আভাস

২০
X