

সবকিছু ছাপিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরপরই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য পুণ্যভূমিখ্যাত সিলেটে গেছেন। বুধবার রাতেই তিনি সেখানে হয়রত শাহজালাল, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ বিশিষ্ট কয়েকজনের মাজার ও কবর জিয়ারত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।
জানা গেছে, তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারে নিজের সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়েছেন দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একঝাঁক যোদ্ধাকে।
এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, দলের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে ‘অনবদ্য ও অভূতপূর্ব অবদান’ রেখেছেন। তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতিস্বরূপ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তার প্রতিটি সফরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সফরসঙ্গী করা হবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কয়েকজন তরুণ ও তৃণমূল নেতা যেমন— ড. জিয়া হায়দার, ডা. রফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, মামুন হাসান, আতিকুর রহমান রুমন, মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিব সিলেট সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে যান।
এ ছাড়াও নির্বাচনী প্রচারণায় সফরসঙ্গী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির চেয়ারম্যানের নির্বাচনী সমন্বয়ক আবদুস সালাম, মিডিয়া সেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু, জাতিসংঘের সাবেক চিফ অব স্টাফ রেহান আসাদ ও রেজাউর রহমান চৌধুরী সুমন রয়েছেন। দলীয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, উল্লিখিত প্রায় সব নেতা গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভার্চুয়ালি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে অমানুষিক নির্যাতন করেছিল। এসব নেতা নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জনগণকে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করবেন সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাদেরকে নির্বাচনী প্রচারণায় সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়েছেন তারেক রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রদল দিয়ে শুরু করে যুবদল এবং বর্তমানে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বহু বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক, বিএনপির মিডিয়া সেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান কেবল সফরসঙ্গী হিসেবে নয়, বরং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং শিক্ষা বিষয়ক রূপরেখা তৈরিতেও তিনি তারেক রহমানকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন।
সূত্র আরও জানায়, বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় জনমত গঠন এবং দলের নির্বাচনী ইশতেহার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত সমাজ ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়াতে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচারণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরা রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হলে দেশের গুণগত পরিবর্তন আসবে।
স্বৈরাচার হাসিনা আমলে একটি জাতীয় দৈনিকে নিবন্ধ লেখার জেরে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান তার শিক্ষকতা পদ নিয়ে আইনি জটিলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি ও বাসস্থান দুটোই হারিয়েছিলেন অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি চাকরি ফিরে পেয়েছেন। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন।
মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু মিথ্যা মামলায় দুই বছরের বেশি সময় জেল খেটেছেন। এ ছাড়া আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, মোনায়েম মুন্না, শ্রাবণ, রাকিব সকলে শেখ হাসিনার দুঃশাসনে ছিলেন নির্যাতিত। তাদের সবাই অসংখ্য মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাগারে থেকেছেন। কিন্তু দমে যাননি। তারা আবারও দলের সব কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম কত নেতাকর্মীর ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান দেওয়া কঠিন। অর্থাৎ যখনই কোনো নেতাকর্মী হামলা শিকার কিংবা গুরুতর আহত বা অসুস্থ হয়েছেন তাদের কাছে ছুটে যান ডা. রফিকুল ইসলাম। সবমিলিয়ে এসব ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের একদিকে মূল্যায়ন অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করতে সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়েছেন তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন